ইরানে ইসরায়েলি হামলার নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি

ইরানে ইসরায়েলি হামলার নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ইরানে ইসরায়েলের হামলার পাঁচ মাস পর এতে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, তার নির্দেশেই গত ১৩ জুন ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মাধ্যমে ইরানে হামলায় মার্কিন প্রশাসনের জড়িত না থাকার তার আগের দাবিকে নিজেই মিথ্যা প্রমাণ করলেন ট্রাম্প।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসরায়েলই ইরানে প্রথমে আক্রমণ করেছিল। সেই হামলা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। আমিই তখন পুরো বিষয়টির দায়িত্বে ছিলাম।’

‘যেদিন ইসরায়েল ইরানে প্রথম হামলা চালায়, সেটি ইসরায়েলের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল। ওই প্রথম হামলায় যত ক্ষতি হয়েছিল, পরের সব হামলা মিলিয়েও ততটা ক্ষতি হয়নি।’

ইরানকে কোনোভাবেই ছাড় না দেওয়ার ইসরায়েলি মনোভাবের সঙ্গে সেনেটর রিপাবলিকান প্রতিনিধিদের তুলনা করে তিনি বলেন, ‘সেনেটে আইন পাসের প্রক্রিয়া এমনভাবে পরিবর্তন করতে হবে যেন সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটেই বিল পাস করা যায়। ঠিক যেভাবে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, রিপাবলিকানদেরও তেমন দৃঢ়তার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

গত ১৩ জুন কোনো প্রত্যক্ষ উসকানি ছাড়াই ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা, পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ বহু সাধারণ নাগরিক নিহত হন। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েলের দিকে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। দুই দেশ জড়িয়ে পড়ে অঘোষিত যুদ্ধে। পরে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের পক্ষে এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।

আরও পড়ুন

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা। ছবি: এপি/ইউএনবি

অবশ্য যুদ্ধের শুরুতে ওয়াশিংটন দাবি করেছিল, ইসরায়েল একক ভাবেই ইরানে হামলা চালিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাদপ্তর জড়িত নয়। ট্রাম্প সে সময় ইরানকে সতর্ক করে বলেন, মার্কিন সেনা ঘাঁটি বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের ওপর কোনো পাল্টা আঘাত হানলে ইরানকে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।

ইরানে ইসরায়েলের হামলার রাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আজ রাতে ইসরায়েল একতরফাভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানে জড়িত নয়। আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যুদ্ধের তীব্রতা বুঝতে পেরে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইসরায়েলি হামলার জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ছবি: এপি/ইউএনবি

এরপর থেকে প্রায়ই যুদ্ধ বন্ধের কৃতিত্ব দাবি করে গর্ব করতে থাকেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি এ-ও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ করে দিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী।

অন্যদিকে, তেহরান এখনো তাদের পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি। ইরানি কর্মকর্তারা জানান, মার্কিন হামলার আগেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বহু বছরের জ্ঞান ও প্রযুক্তির কারণে তাদের কর্মসূচি এখনো সচল রয়েছে। দেশটির মজুত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান অবস্থা নিয়েও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর