আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাংকের ঋণখেলাপিরা অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকেরা যদি উৎসাহ দেন, যে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেবেন ও ভোট দেবেন, তাহলে তো অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কিছুই করা যাবে না। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ভাল নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে অর্থ মন্ত্রণালয়।’
বুধবার জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ‘ইউ পেনশন অ্যাপ’ উদ্বোধন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা এ কথা বলেন তিনি। অর্থ উপদেষ্টা অ্যাপটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন খান, সদস্য গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সব সময় বলি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর। নির্বাচন কমিশনের উচিত ঋণখেলাপিদের শনাক্ত করা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আদালতের স্টে অর্ডার নিয়ে। মহীউদ্দীন খান আলমগীর (আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী) তো ঋণখেলাপি হয়েও পাঁচ বছর কাটিয়ে দিয়েছিলেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো আমাদের কাছে বিষয়টি আসেনি। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন চিন্তা করবে। তবে কালোটাকার ক্ষেত্রে দুটি বিষয়। একটি হচ্ছে উৎস, আরেকটি প্রক্রিয়া। উৎসটা আগের চেয়ে মোটামুটি বন্ধ হয়েছে। আগে তো ব্যাংকের মালিক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, সংবাদপত্রের মালিক, ফ্ল্যাটের মালিক সব একজনই ছিল। কিন্তু এখন তা হচ্ছে না। এখন মোটামুটি চেক অ্যান্ড ব্যালান্স (ভারসাম্য) হচ্ছে।’
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজনৈতিক বক্তব্য তারা রাখুক। আমি বামপন্থী রাজনীতি করেছি। তখন কত বক্তব্য দিয়েছি! হল বন্ধ করে দাও, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দাও ইত্যাদি। বন্ধ হয়েছে নাকি?’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘ইউ পেনশন’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এখন থেকে ব্যক্তিপর্যায়ে সর্বজনীন পেনশনের কর্মসূচির চাঁদা দেওয়া যাবে। লগইন, তথ্য যাচাই, নোটিফিকেশন, নমিনি পরিবর্তন—সবই করতে পারবেন গ্রাহকেরা।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত, স্বশাসিত সংস্থায় ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে যারা নতুন চাকরিতে যোগ দেবেন, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ‘প্রত্যয়’ নামক পেনশন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার।


