মঙ্গলবার ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ।
গত ২২ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুন দিন নির্ধারণ করেন। এর আগে গত ১৪ মে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি খালাস পাওয়ার যোগ্য।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও ফারুক আহাম্মদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন হাসানুল হক ইনু। তাদের দাবি, ইনুর প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে সংঘটিত অপরাধের জন্য ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়ও তার ওপর বর্তায়।
শুনানিতে প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও ইনুর মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করে। তাদের দাবি, ওই কথোপকথনে ইনু গণআন্দোলনকে জঙ্গিবাদ আখ্যা দিয়ে তা দমনের পক্ষে বক্তব্য দেন।
তবে আসামিপক্ষের বক্তব্য, ওই কথোপকথনে আন্দোলন দমনে গুলি চালানো, বোমাবর্ষণ বা নির্যাতনের নির্দেশ কিংবা এ ধরনের কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য নেই। তাদের দাবি, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত নথিপত্রেও ইনুর বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
মামলাটিতে গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করলে শুনানি শেষে আদালত সেগুলো আমলে নেন।
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট হাসানুল হক ইনু গ্রেপ্তার হন। পরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


