এবারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশে আর কখনো ‘রাতের ভোট’ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, গত ১৬ বছর নির্বাচনের নামে যেসব প্রতারণা করা হয়েছিল, সেগুলোর পথ চিরতরে বন্ধ হবে।
সোমবার রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম যেন দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পদ্ধতি গড়ে তোলা যায়। কিন্তু ব্যাপক জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও বিগত ফ্যাসিবাদীরা নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এ ব্যবস্থাকে বাতিল করে দেয়। তবে আসন্ন গণভোটে জনগণ সম্মতি দিলে দেশে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।’
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।
গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহী বিভাগের ইমামদের নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ১২ শতাধিক ইমাম অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে আসন্ন গণভোটে সরকারের তরফে প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশে দুর্নীতি ও লুটপাট এক ভয়ংকর অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছিল। আমাদের এমন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন ছিল, যারা এই লুটতরাজ বন্ধ করতে পারে। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনকে বারবার রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। দুদকসহ এ ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তার জন্যই জুলাই সনদ ও গণভোট।’
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত দেশে যতগুলো গণভোট হয়েছে, তার থেকে এবারের গণভোট অনেকখানি ভিন্ন। বিগত সরকারগুলো ক্ষমতায় থেকে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য গণভোট করেছিল। ছাব্বিশের গণভোটে কেউ ক্ষমতায় থেকে বাস্তবায়নের জন্য জনগণের রায় চাইছে না।
রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা আগামীতে ক্ষমতায় আসবে, তারাই জনগণের রায় বাস্তবায়ন করবে।
অনুষ্ঠানে মনির হায়দার বলেন, ‘গত ১৬ বছর আমরা একটি দানবীয় ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এসেছি। স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের যত অর্জন, তার সবটুকু বিগত শাসনামলে ধ্বংস করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের পূর্বপুরুষেরা তাদের জীবন ও রক্ত দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশের জন্ম দিয়েছিলেন একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৫৪ বছরে আমরা সেই স্বপ্নের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারিনি। তাই এবারের রাষ্ট্র সংস্কারের গণভোট।’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহীর পরিচালক মো. ইমামুল ইসলাম, রাজশাহী কালেক্টরেট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম এবং ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি সম্মেলনে বক্তব্য দেন।


