চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার তৎপরতায় বন্দরনগরীর বায়েজিদ এলাকায় অবস্থিত জেপি সনেট লিমিটেডের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।
মালিকপক্ষ বুধবার কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করে।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং ভোরে শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজিব দাস বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করেছি, ব্যর্থ হয়ে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে।’
ভুক্তভোগী সিনিয়র অপারেটর মো. মনির হোসেন বলেন, ‘ডিসি স্যার নিজে ফোনে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং মালিকপক্ষকে সতর্ক করেন-প্রয়োজনে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে হলেও বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।’ তিনি কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিশ্রমের প্রশংসা করেন।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বায়েজিদ থানার সভাপতি জোহাঙ্গীর হোসেন জানান, ডিসি হস্তক্ষেপ না করলে ঈদের আগে শ্রমিকরা পাওনা পেতেন না। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অর্থে বকেয়া পরিশোধ সম্ভব ছিল না। ডিসি স্যারের নির্দেশে আমরা যন্ত্রপাতি বিক্রি করি এবং ভোরে পুরো টাকা বিতরণ করা হয়।’
চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে মালিকপক্ষ বকেয়া পরিশোধে অনড় থাকলে ডিসির সক্রিয় হস্তক্ষেপে বাধ্য হয়।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘ঈদের আগে তিন মাসের বকেয়া বেতন এবং শ্রমিকদের দুর্দশা বিবেচনা করে যন্ত্রপাতি বিক্রির কঠোর নির্দেশ দিতে হয়েছে।’
শ্রম অসন্তোষের সূত্রপাত হয়েছিল ১৪ মার্চ, যখন ১৩০ শ্রমিক তিন মাসের বেতন ও ভাতার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। মালিকপক্ষ সময়মতো পরিশোধ না করায় অসন্তোষ বেড়ে যায়। জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় বুধবার ভোরে যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধ করা হয় এবং চার দিনের শ্রম অসন্তোষ শেষ হয়।


