মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনাকে ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত নিতে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু উসকানি দিয়েছেন বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এমন দাবি করেছেন সরকার পক্ষের কৌশুলি মিজানুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ইনুর প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করেছেন।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আরও জানান, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে এসব অপরাধের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায় হাসানুল হক ইনুর ওপরেও বর্তায়।
যুক্তি উপস্থাপনের সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ডের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, জাসদ সভাপতি ওই কথোপকথনে গণআন্দোলনকে জঙ্গিবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি এই আন্দোলন দমনের কথাও বলেছিলেন।
বুধবারের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ। তারা প্রসিকিউশনের যুক্তি খন্ডন করে বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ডের কোথাও আন্দোলন দমনে গুলি করা, বোমা হামলা বা নির্যাতন করার মতো কোনো বক্তব্য নেই। প্রসিকিউশনের দাখিল করা নথিতেও এমন কোনো তথ্য নেই যেখানে ইনু কাউকে গুলি করতে বা নির্যাতন করতে উস্কানি দিয়েছেন।
তাদের মতে, আন্দোলন দমনে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে হাসানুল হক ইনু জড়িত ছিলেন না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১ ডিসেম্বর এই মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ইনুর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে। এই মামলায় ইতিমধ্যে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।
হাসানুল হক ইনু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।


