‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে ফ্যাসিস্ট ফিরে আসবে’

‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে ফ্যাসিস্ট ফিরে আসবে’
বগুড়ার শহীদ খোকন পার্কে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি গভীর সংকটে নিমজ্জিত, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে, ন্যায়বিচার অনুপস্থিত এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়করণের মাধ্যমে একদলীয় কর্তৃত্ববাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সংস্কার, বিচার ও সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন না করলে বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিস্ট ফিরে আসবে। আমরা কোনো চেতনায় উদ্ভুদ্ধ না হয়ে মদিনার চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হতে চাই। মদিনা চেতনা অনুসরণ করলে, আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি পাব।‘

মঙ্গলবার বিকালে বগুড়ার শহীদ খোকন পার্কে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে হলে রাষ্ট্র সংস্কার জরুরি। সংসদীয় ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং প্রশাসনকে দলীয়করণ থেকে মুক্ত করতে হবে। জনগণের সম্পদ পাচারকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।‘

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এখন সংবিধানসম্মত পথ হচ্ছে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে নির্বাচন আয়োজন করা। পিআর পদ্ধতি চালু ছাড়া বিকল্প নেই। পিআর পদ্ধতিতে প্রতিটি ভোটের মূল্য থাকে, যেখানে ছোট-বড় সব দলই আনুপাতিক হারে সংসদে আসন পায়। এতে একটি শক্তিশালী, প্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ গঠন হয়, যা জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।‘

আরও পড়ুন

ফয়জুল করীম আরও বলেন, ‘এদেশ কারও বাপ-দাদার সম্পত্তি নয়, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে আমরা ঘরে বসে থাকব না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায় করব।‘

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি আল্লামা আব্দুল হক আজাদ বলেন, ‘জুলাই সনদটি জাতির সামনে উপস্থাপিত হয়েছিল, তার মূল কথা ছিল একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ সনদ বাস্তবায়িত হলে দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ কমবে এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ খুলে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত হলে, আমরা আগামীকালই নির্বাচন চাই। নির্বাচনের জন্য আর অপেক্ষা নয়, জনগণ প্রস্তুত।’

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বগুড়া জেলা সভাপতি আনম মামুনুর রশীদ এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম শফিক।

সভায় আরও বক্তব্য দেন আন্দোলনের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল মতিন, মীর মাহমুদুর রহমান চুন্নু, মুফতি এমদাদুল হক, জিয়াউর রহমান জিয়া, মুহাম্মাদ সোহরাব হোসেন, ফরহাদ হোসেন মন্টু, নাঈম হাসান প্রমুখ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad