শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরতদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ঘোষিত ‘গণজমায়েত’ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জি এস) এস এম ফরহাদ।
পূর্বঘোষিত ‘গণজমায়েত’ কর্মসূচি স্থগিতের প্রসঙ্গে ফরহাদ বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের দায়িত্বশীলরা বারবার আমাদের ফোন করে অনুরোধ জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এখানে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি অংশ উস্কানি দিচ্ছে।’
শুক্রবার জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করে ইনকিলাব মঞ্চ। তবে পদযাত্রার একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই প্রতিবাদে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদগুলো বিক্ষোভের ডাক দেয়, তার অংশ হিসেবে গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করে ডাকসু।
ফরহাদ বলেন, ‘হাদি হত্যার পর, পুরো বাংলাদেশ যেভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছিল আমরা ভেবেছিলাম ইন্টেরিম সম্ভবত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিচারটা করবে। কিন্তু বিচার দীর্ঘায়িত হওয়ায় দ্রুত সম্পন্নের দাবি নিয়ে আন্দোলনে ডিএমপি কমিশনার উপস্থিত থেকে আন্দোলনকে মকারি করতে দেওয়া দায়িত্বশীল জায়গা থেকে একটা নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ।’
‘তারা বারবার আক্রমণ করছে। হাদিকে নিয়ে মকারি করছে। আমাদের আন্দোলনকে নিয়ে মকারি করছে। জুলাইকে নিয়ে মকারি করছে। সেই একটি সুপ্ত গুপ্ত অংশ যারা আওয়ামী লীগ ছিল, তারা পুলিশের হয়ে গেছে।’
‘সেজন্যই ইনকিলাবের অনুরোধের কারণে আমরা আমাদের কর্মসূচি ক্যাম্পাসে সংক্ষিপ্ত করছি,’ যোগ করেন তিনি।
‘আওয়ামী লীগের’ একটা অংশ আন্দোলনকে নষ্ট করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘শাহবাগের জমায়েতের মধ্যেও আওয়ামী লীগের একটি অংশ ঢুকে গেছে। তারা আন্দোলনকে নষ্ট করে দেওয়া ও ভিন্ন পথে পরিচালিত করার ষড়যন্ত্র করছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মোহাঃ মহিউদ্দিন, কার্যনির্বাহী সদস্য রায়হান উদ্দিন, কমনরুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক উম্মে সালমা, কার্যনির্বাহী সদস্য রাইসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।


