আবারও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয় থেকে সব কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইংরেজি ভাষার দৈনিকটির একাধিক সাংবাদিক টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার বিকাল প্রায় সাড়ে পাঁচটার দিকে সবাইকে অফিস ছাড়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ। এরপর পুলিশের পরামর্শেই নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন ডেইলি স্টারের কর্মীরা।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অফিসের নিচে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানান, শাহবাগে উত্তেজনা চলছিল। বাংলামোটরেও একটি গ্রুপ চলে এসেছিল। তারা কাওরানবাজার পর্যন্ত আসতে পারে- এমন গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে এসেছিল। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে দশ মিনিটের মধ্যে সবাইকে অফিস ছাড়ার পরামর্শ দেন তারা। এরপর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত অফিস ছাড়েন সবাই।
সন্ধ্যা সাতটার দিকে সরেজমিনের দেখা যায়, ডেইলি স্টার অফিসের প্রধান ফটকের সামনে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। তবে ঘটনার বিষয়ে অফিসিয়াল মন্তব্য করতে রাজি হননি কেউ।
দায়িত্বরত পুলিশরা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তাদের নির্দেশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ডেইলি স্টার অফিসের পাশের গলিতে অবস্থান করা একজন সাংবাদিক জানান, হামলার আশঙ্কায় সবাই যখন নিচে নেমে আসে তখন থেকেই একজন ব্যক্তিকে ডেইলি স্টারের আশেপাশে মোবাইলে লাইভ করতে বা ছবি তুলতে দেখা গেছে। সর্বশেষ সাতটার দিকে তিনি ওভার ব্রিজ পার হয়ে কারওয়ান বাজারের দিকে গেছেন। কোনো নাশকতার ঘটনা ঘটেনি। তবে আতঙ্ক কাজ করছে।
এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা চালায় একদল বিক্ষোভকারী।
সেদিন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রথমে কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। পরে দ্য ডেইলি স্টারের ভবনে হামলা চালায়।
সেদিন দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে অফিসের ছাদে আটকা পড়েন কয়েকজন সাংবাদিক। হামলাকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটও চালায়। পরে রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে বের করে আনে।
শুক্রবার জাতিসংঘের অধীনে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের রাবার বুলেটে আহত হন। এরপরই বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহণ করে অফিস কর্তৃপক্ষ।


