বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ছাড়াও আল জাজিরা, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ প্রধান শিরোনামে উঠে এসেছে।
বিবিসি
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
গত সোমবার চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন।’ তার বয়স ও সামগ্রিকভাবে দুর্বল শারীরিক অবস্থার কারণে একসঙ্গে একাধিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
তার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
বিবিসি জানায়, বেশ অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাশিত সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছিল তার দল।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খালেদা জিয়া প্রথমবার জনসমক্ষে আসেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে। ১৯৮১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এবং পরে বিএনপির নেতৃত্বে উঠে আসেন।
১৯৮০’র দশকে সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের অধীনে অনুষ্ঠিত এক বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক অঙ্গনে বাধা অতিক্রম করে খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রীতে পরিণত হন।
১৯৯১ সালে দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন।

রয়টার্স
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার সঙ্গে কয়েক দশক ধরে ক্ষমতা অদলবদলের মধ্য দিয়ে এক তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়েছিলেন খালেদা জিয়া।
দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৮০ বছর বয়সে মঙ্গলবার তিনি মারা যান। চিকিৎসার জন্য ২০২৫ সালের শুরুর দিকে লন্ডনে যান বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সেখানে চার মাস অবস্থান করার পর দেশে ফেরেন তিনি।
২০০৬ সাল থেকে খালেদা জিয়া ক্ষমতার বাইরে ছিলেন। কয়েক বছর কারাবন্দি বা গৃহবন্দি অবস্থায় কাটালেও, তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
এনডিটিভি
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, আগামী নির্বাচনে আবারও নেতৃত্বে ফিরবেন বলে মনে করছিলেন অনেকে। কিন্তু দীর্ঘ অসুস্থতার পর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তিনি মারা যান বলে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের বরাত দিয়ে তাদের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ কিডনি, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও চোখের জটিলতায় ভুগছিলেন। তার চিকিৎসায় বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যুক্ত ছিলেন।

গত ২৩ নভেম্বর হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তিনি টানা ৩৬ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময় তার নিউমোনিয়াও ধরা পড়ে।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর গুরুত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান, ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন, জিও নিউজসহসহ আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যমে।
এর আগে, বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান খালেদা জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


