ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যে আটকা পড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের চরম উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে জাহাজটি চলতে শুরু করায় স্বস্তি ফিরেছে জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের মাঝে।
‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান বুধবার বিকালে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানান, জাহাজটি সকাল সাড়ে ৮টায় বন্দর ত্যাগ করেছে।
আশা করা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের মধ্যে এটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করবে। এরপর জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে নোঙর করবে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরের দিকে রওনা হবে।
এর আগে জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন ফসফেট সার বোঝাই করে। জাহাজে থাকা নাবিকেরা জানান, প্রায় এক মাস যুদ্ধের আশঙ্কায় কাটানোর পর পুনরায় যাত্রা শুরু করতে পেরে তারা কিছুটা স্বস্তি বোধ করছেন। তবে হরমুজ প্রণালিটি নিরাপদে পার হতে পারলেই তাদের দুশ্চিন্তা পুরোপুরি দূর হবে।
বুধবার চট্টগ্রামে বিএসসি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জাহাজের বর্তমান অবস্থান ও উদ্ভূত পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার অনুমতি পাবে।
তিনি বলেন, জাহাজটি এখন চলার পথে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে অপেক্ষা করবে। প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স বা অনুমতি পাওয়ার পরপরই এটি এগিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। এর পরদিনই ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়।
কমডোর মালেক জানান, জেবেল আলী বন্দরে যখন পণ্য খালাস করা হচ্ছিল, তখন পার্শ্ববর্তী একটি তেল ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পণ্য খালাস শেষে জাহাজটিকে প্রথমে হরমুজ প্রণালি থেকে ৬০ মাইল দূরে এবং পরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি এড়াতে শারজাহর কাছাকাছি সরিয়ে নেওয়া হয়।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের যে ছয়টি জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ তার মধ্যে অন্যতম। যদিও আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র এখনো হাতে আসেনি। বর্তমানে জাহাজটিতে থাকা সার ৩০ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত নিরাপদে রাখা সম্ভব, যা একটি বড় পরিচালনাগত সুবিধা।
গত ১১ মার্চ পণ্য খালাসের পর প্রায় এক মাস জাহাজটি অলস বসে থাকলেও প্রতিদিন ২০ হাজার ডলার চার্টার ভাড়া পাবে বিএসসি। ফলে সংস্থাটির কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না। সংকটের এই সময়ে জাহাজটিতে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জ্বালানি মজুত ছিল এবং নাবিকেরা নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিএসসি সার্বক্ষণিকভাবে নাবিকদের মনোবল চাঙা রাখতে কাজ করে যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।


