বিএনপি আইন করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি কোনো অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় শাস্তি পেতে হবে।’
গুলশানে নিজ কার্যালয় থেকে বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। জনতোপের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় এবার নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের কেউ নির্বাচন করতে পারছেন না।
এমন প্রেক্ষাপটে আইন করে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিরোধিতা করে বার্তা দিলেন দেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী তারেক রহমান।
নির্বাচিত হলে তারেক রহমানের বিভিন্ন পরিকল্পনাও এএফপির সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। নির্বাচিত হলে ‘বিশাল’ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন বলে মনে করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। আগের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময় দেশ লুট হওয়ায় দেশ পুনর্গঠনই তার মূল লক্ষ্য হবে।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার নির্বাচনে জয়ী হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে দেশে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা।
‘১৭ কোটি মানুষের দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজটি সামনে কঠিন হবে’ সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে।’
ক্ষমতাচ্যুত সরকার সাধারণ মানুষকে উপেক্ষা করেছে দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। গত শাসনামলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। জ্বালানি খাত ধ্বংস হয়েছে।’
এই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা পরের সরকারের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী দেশ। আমাদের সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।’
‘দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অনেক। তরুণদের কাজের জন্য নতুন ব্যবসা সৃষ্টি করতে হবে’, যোগ করেন তারেক রহমান। নারীদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ জানান।
তারেক বলেন, ‘মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। কিছু মানুষ খুব ধনী হয়েছে। কিন্তু দেশের বাকি মানুষ কিছুই পায়নি।’
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের দল বিএনপি নির্বাচন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। তবে তাদের সামনে বৃহত্তম ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।
তবুও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছ থেকে স্পষ্ট ম্যান্ডেট আশা করছি…বড় ম্যান্ডেট। ভোটের ফলই সে ম্যান্ডেট তুলে ধরবে।’
একক সরকার গঠনের জন্য বিএনপি পর্যাপ্ত ভোট এবং আসন জিতবে বলেও মনে করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। কাজেই বর্তমান জোটের বাইরে আর কোনো জোটের প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি।
প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েনের দিকেও আলোকপাত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে তারেক সতর্ক অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘আমার কাছে জনগণের স্বার্থ ও দেশের স্বার্থই সবার আগে। বাংলাদেশ চায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অন্তত “প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক” থাকুক। কেউ কাউকে হেয় না করুক।’
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান শেখ হাসিনার শাসনামলে ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত ছিলেন। দলের চেয়ারপারসন ও মা খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে গত ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন।
দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। এরপর বিএনপির নেতৃত্ব নেন তারেক রহমান।
দেশের রাজনীতিতে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘তারা তাদের মতো, আমি আমার মতো। আমিও সারা জীবন রাজনীতিতে যুক্ত। আমি তাদের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করব।’


