গোলাম আযম ও তার অনুসারীদের ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান’ আখ্যা দেওয়াকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি চূড়ান্ত অবমাননা বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, ‘গোলাম আযম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরাই যদি শ্রেষ্ঠ সন্তান হন, তাহলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা কোথায় দাঁড়ায়?’
বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই সাজা চলাকালে ২০১৪ সালে হাসপাতারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই নিষিদ্ধ করা হয় তার দল জামায়াতকে।
গত বছরের ৫ আগস্ট তীব্র গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ফের বাংলাদেশে রাজনীতিতে সক্রিয় হয় জামায়াত, ওঠে নিষেধাজ্ঞা।
এরপর বিভিন্ন সময়ে জামায়াত ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা বিভিন্নভাবে গোলাম আযমকে ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন।
সবশেষ গত রোববার পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যেও গোলাম আযমকে স্বাধীনতাযুদ্ধে এ দেশের সূর্যসন্তান এবং দেশপ্রেমিক বলে পরিচয় করিয়ে দেন কলেজ শিবিরের এক নেতা।
বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখার কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতারা। অনুষ্ঠান বয়কট করেন তারা। বিষয়টি নিয়ে হয় হট্টগোল। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে শুরু হয় নতুন করে আলোচনা।
এরই প্ররিপ্রেক্ষিতে মির্জা আব্বাস বিজয় দিবসের সকালে বলেণ, ‘জামায়াত ১৯৪৭ সাল থেকে কখনো দেশের শান্তি বা স্বাধীনতা কামনা করেনি এবং এখনও তারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করছে।’
দেশকে অস্থিতিশীল করে রাখা এবং বাংলাদেশে অশান্তি জিইয়ে রাখা জামায়াতের লক্ষ্য বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘একাত্তরে জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা পালন করেছে এবং এখনো তারা সেই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘১৯৭১ ও ২০২৪–দুটি সময়ই নিজ নিজ প্রেক্ষাপটে আলাদা ও স্বতন্ত্র। এই দুটি সময়ের মধ্যে তুলনা করার কোনো সুযোগ নেই।’
আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।
একই সঙ্গে এটাও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দেশ গড়ার যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তা ভেঙে দিয়েছে।’
এ সময় উপস্থিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তা বাস্তবায়নে কাজ করবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানসহ দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলে


