ধান ও চাল উৎপাদনের অন্যতম জেলা নওগাঁয় গত এক মাসে সুগন্ধি (আতপ) চালের দাম কেজিতে ৮০ টাকা বেড়েছে। একই সময়ে কাটারিসহ বিভিন্ন ধরনের সরু চালের দামও বেড়েছে। ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা দামের এ ঊর্ধ্বগতির পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ তুলে ধরেছেন।
নওগাঁ পৌর খুচরা চাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত তিন সপ্তাহে সব ধরনের সরু চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া কাটারি চালের শর্টার ও নন শর্টার উভয় ধরনের চালের দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে ৭৬ থেকে ৮০ টাকায় উঠেছে। স্বর্ণা-৫ চালের দাম ২ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫১ টাকা। বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে, যা কয়েকদিন আগে ছিল ৫৮ টাকা।
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সুগন্ধি চালের দাম। এক মাস আগে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া এ চাল এখন ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ৮০ টাকা।
চালের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সুগন্ধি চাল কিনতে আসা ইসমাইল হোসেন বলেন, গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ১৩ কেজি চাল কিনতে এসে দেখি, কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দাম বেড়েছে। এতে অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হয়েছে। আরেক ক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য চাল কেনা কঠিন হয়ে পড়বে।
নওগাঁ পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজারের ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, ৪০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে তিনি আতপ চালের এমন মূল্যবৃদ্ধি দেখেননি। তার মতে, এ দামের পেছনে যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
আরেক ব্যবসায়ী আনোয়ারের অভিযোগ, কিছু বড় মিল ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান মৌসুমের শুরুতে চাল মজুত করে এখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
ফারিহা ও শেখ রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, চালের ব্যবসা ধীরে ধীরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তাদের নির্ধারিত দামের প্রভাব পুরো বাজারে পড়ছে। এতে ছোট ও মাঝারি মিল মালিকরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না। তিনি বাজারে অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
মফিক উদ্দিন অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার কয়েক মাস ধরে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ায় এবার বড় পরিসরে রপ্তানি হচ্ছে। এতে চালের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। পাশাপাশি আতপের বিকল্প হিসেবে কাটারিসহ অন্যান্য সরু চালের চাহিদা বাড়ায় সেগুলোর দামও বেড়েছে।
নওগাঁ চাউলকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, চিনিগুড়া একটি বিশেষায়িত সুগন্ধি চাল। এর উৎপাদন সীমিত হলেও চাহিদা বেশি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যে হারে দাম বেড়েছে, তা স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে হাটে প্রতি মণ কাটারি ধান ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং আতপ ধান ৩ হাজার ৭০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।
নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফরহাদ খন্দকার বলেন, মূলত আতপ চাল রপ্তানির কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। তিনি জানান, নওগাঁয় অটোমেটিক ও হাসকিং মিল মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪০০ রাইস মিল রয়েছে। খাদ্য বিভাগ নিয়মিত মিলগুলো তদারকি করছে এবং অবৈধ মজুদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করছে।


