জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের যে আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকাই গেছে সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প। সংশোধিত পাঁচটি প্রকল্পে অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে প্রায় ৯ হাজার ৯৪১ কোটি ৯৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, যা মোট অনুমোদিত ব্যয়ের প্রায় ৭১ শতাংশ।
বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা হয়। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যয় বেড়েছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে। ২০১৭ সালে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা করা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনীতে তা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়।
এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন বেড়েছে ৫ হাজার ৯৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সংশোধনের পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (১ম সংশোধন) প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৩৬৮ কোটি টাকা, যা শতকরা হিসাবে ৩৬ শতাংশের কাছাকাছি।
২০২২ সালের মার্চে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। এখন প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে নতুন করে ১৫ হাজার ৫৭১টি সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো যুক্ত করা হচ্ছে। এতে স্থাপনা বেড়ে ৩২ হাজার ৮৯২টিতে পৌঁছেছে।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন প্রকল্পে দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বেড়েছে ৮১ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
২০২০ সালে অনুমোদনের সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫৫ কোটি ২২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনীতে বাড়িয়ে ২৯৪ কোটি টাকা করা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও বেড়ে করা হয়েছে ৩৭৫ কোটি ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।
দুটি প্রকল্পের ব্যয় কমানো হয়েছে। এর মধ্যে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ১ হাজার ২৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।
২০১৮ সালে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির ব্যয় ১ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। পরে কিছুটা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা করা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনীতে কিছুটা কমিয়ে ১ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা করা হয়। এবার তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় আরও কমিয়ে ৮৮০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
ব্যয় এত কমার কারণ জানতে চাইলে কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের অনেক কিছু ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ১১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় কমানো হয়েছে।
নতুন প্রকল্প
সভায় নতুন করে তিনটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা; পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পে ২ হাজার ৮২ কোটি এবং একটি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং ২টি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন প্রকল্পে ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১১টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করা হয়।
সেগুলো হলো- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আঞ্চলিক অফিস স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, গৌরনদী বরিশাল স্থাপন প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত); হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল মোবাইলে নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্প; নলকা-সিরাজগঞ্জ –সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ (শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হতে কাটা ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত) চার লেন উন্নীতকরণ ও বাকি অংশ দুই লেনে উন্নীতকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; পিরোজপুর-নাজিরপুর-মাটিভাঙ্গা-পাটগাতী-ঘোনাপাড়া (জেড-৭৭০৪) জেলা মহাসড়কের ঘোনাপাড়া হতে পাটগাতী সেতু অ্যাপ্রোচ পর্যন্ত অংশসহ জেড-৮৫০৪, জেড-৮৫০৭ ও জেড-৮৪২৯ জেলা সহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ভুয়াপুর লিংক সড়ক (জেড-৪৮০২) নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইভাকুয়েশনের জন্য সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম সংশোধন) প্রকল্প; পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন এবং ক্ষমতাবন্ধন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প এবং গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর ও যশোর জেলায় বিটাকের ছয়টি কেন্দ্র স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।


