ঢাকার আদাবর থানার অস্ত্র আইনের মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার ১৮ তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন এ রায় ঘোষণা করেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি ঈসমাইল হোসেন এ তথ্য জানান।
এর আগে, গত রোববার মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আদালত আজকের দিন ধার্য করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে মাদক কারবারী সন্দেহে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে র্যাব অভিযান চালায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই মাদক কারবারী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে আটককৃত ব্যক্তি নিজের নাম ফয়সাল করিম বলে জানান। পালানোর চেষ্টার কারণ জানতে চাইলে, র্যাবকে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
খোঁজ নিয়ে র্যাব জানতে পারে, ওই ব্যক্তি আদাবর থানায় চুরির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এরপর র্যাব ফয়সালের বাসায় তল্লাশী চালিয়ে চার রাউন্ড গুলিসহ বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করে। তিনি সে সময় ওইসব অস্ত্রের কোনও বৈধ কাগজও দেখাতে পারেননি। এ ঘটনায় র্যাব-২ এর হাবিলদার মো. মশিউর রহমান পরদিন ৮ নভেম্বর আদাবর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে ফয়সাল করিমকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ আদাবর থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হাসান আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
মামলায় চার্জশিটে বলা হয়, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক কেনাবেচার মুল হোতা। সে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। এ ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের জন্য অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও তিনি নিজের কাছে রেখেছিলেন।
মামলার বিচার চলার সময় ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে দুষ্কৃতিকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডে ফয়সাল করিমের নাম আসে। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগ পত্রে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।


