সারা দেশে এলপি গ্যাস বিক্রিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান।
বিইআরসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবসায়ীরা প্রধানত তিনটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হচ্ছে সারা দেশে চলমান প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ করা, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের লভ্যাংশ (চার্জ) বাড়ানো এবং এলপি গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বৈঠক শেষে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, চলমান অভিযানের বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবে কমিশন। এছাড়া খুচরা পর্যায়ে চার্জ বাড়ানোর বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি। সরবরাহ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপারেটররা জানিয়েছে জাহাজ সংকটের মধ্যেও বিকল্প উপায়ে পণ্য আমদানি করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
এদিকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আভাস মিললেও গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। সমিতির সভাপতি সেলিম খান দাবি করেন, অপারেটরদের কাছ থেকেই তাদেরকে এক হাজার ৩০০ টাকার বেশি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার এক হাজার ৫০০ টাকার নিচে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, বিইআরসি চেয়ারম্যান জানিয়ে দেন, জানুয়ারি মাসের জন্য নির্ধারিত সরকারি দাম এক হাজার ৩০৬ টাকাই বহাল থাকবে। এর বেশি দামে পণ্য বিক্রির কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারা দেশে সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ডাক দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায়। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ঢাকা, গাজীপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় এলপিজি বিক্রি বন্ধ থাকতে দেখা যায়। তবে দুপুরের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণায় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা পুনরায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি শুরু করেন।


