খাগড়াছড়ির ‘অশান্ত পরিস্থিতি’ মোকাবেলায় পাহাড়ি-বাঙালি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।
রোববার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় এ আহ্বান জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ‘পাহাড়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধ ও পরিস্থিতি শান্ত করতে আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’ ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকারের সভাপতিত্বে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, সেনাবাহিনীর সদর জোন কমান্ডার লেফটেনেন্ট কর্নেল মো: খাদেমুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, পাহাড়ি নেতা রশি শংকর তালুকদার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার প্রমুখ।

এদিকে, মারমা জনগোষ্ঠীর স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে চলছে ‘অনির্দিষ্টকালের’ সড়ক অবরোধ। অবরোধের কারণে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যানবাহন চলাচল । অবরোধ সমর্থকরা জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ পালন করছেন।
এরমধ্যেই বেলা ১১টার দিকে জেলার গুইমারার রামছু বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় সেনাবাহিনীর সদস্যসহ কয়েকজন অবরোধকারী আহত হন। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলায় বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি ও পুলিশ মাঠে রয়েছে। জরুরি কাজ ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের না হতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শুক্রবার আধাবেলা ও শনিবার সকাল-সন্ধ্যা অবরোধে পরিস্থিতি অবনতি হলে এ দিন দুপুরে খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারায় জারি করা হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা। তবে ১৪৪ ধারার ভেতরেই শনিবার সন্ধ্যায় জেলা সদরে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতে জড়ালে বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে। এর জেরে ‘জুম্ম (পাহাড়ি) ছাত্র-জনতা’ এই অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাকা দেয়।
এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় মারমা ভাষাভাষী অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরদিন বুধবার সকালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সন্দেহভাজন যুবক শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

খাগড়াছড়ির অবরোধকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি উভয় পক্ষকে ‘সংযম দেখানোর’ আহ্বান জানিয়েছে। দলের তথ্য ও প্রচার বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ‘১৪৪ ধারার ভেতরেই’ ওই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি’ রক্ষায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
খাগড়াছড়িতে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাঙামাটির এক অনুষ্ঠানে চাকমা রাজা (সার্কেল চিফ) দেবাশীষ রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বিচারহীনতার” কারণে পাহাড়ে ধর্ষণের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না। তার অভিযোগ, ‘কোনো সরকার এ পর্যন্ত ধর্ষণ প্রতিরোধ এবং ধর্ষকদের আইনের আওতায় আনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে চোখে পড়েনি।’
ওই ধর্ষণের প্রতিবাদে পার্বত্য জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)সহ বিভিন্ন পাহাড়ি সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শাহবাগে পাহাড়ি ছাত্র-জনতা একাধিক বিক্ষোভ-সমাবেশ করছেন।


