মারমা জনগোষ্ঠীর এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবিতে খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত খাগড়াছড়ি পৌরসভা এবং সদর উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম।
শনিবার পাহাড়ি ছাত্র-জনতার ডাকা অবরোধ চলাকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় অবরোধকারীদের সঙ্গে স্থানীয় বাঙালি যুবকদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরপরই খাগড়াছড়ি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম এ সিদ্ধান্ত জানান। তবে খাগড়াছড়িতে অবরোধ এখনো চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায়ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় গুইমারা উপজেলায় পরর্বতী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তার।
এদিকে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাত প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকায় মারমা স্কুলছাত্রী প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুষ্কৃতকারী তাকে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। দীর্ঘ সময় পরও মেয়েটি বাড়িতে না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে অচেতন অবস্থায় ফসলের মাঠ থেকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
ধর্ষণের ঘটনায় পার্বত্য জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রায় প্রতিদিনই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)সহ বিভিন্ন পাহাড়ি সংগঠন। ঢাকায় পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা একাধিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়িতে আধাবেলার সড়ক অবরোধও হয়েছে। এরপর শনিবার আবারও অবরোধ ডাকেন তারা।


