২০২৪ সালের ভারত সফরের কানপুর টেস্ট। এরপর বাংলাদেশের জার্সিতে আর কোথাও দেখা যায়নি সাকিব আল হাসানকে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার প্রত্যাবর্তনও অনিশ্চিত। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট খেলে অবসরে যেতে চাইলেও সেটা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ব্রাত্য এক সময়ের পোস্টার বয় সাকিব। প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়াররও।
সাকিবের ক্যারিয়ার কি এখানেই শেষ? নাকি দেশের জার্সিতে আরো একবার দেখা যাবে সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে? দেশে কি তিনি ফিরবেন? সব প্রশ্নের উত্তরই মিলল রবিবার। ইংলিশ ব্রডকাস্টার নুবাইদ হারুন আর সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মঈন আলীর ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’ পডকাস্টে অতিথি হয়ে আসেন সাকিব। সেখানেই আড্ডার মধ্যে জানান, দেশে ফিরতে চান সাকিব, একই সাথে দেশের মাটিতে খেলেই অবসর নিতে চান তিনি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে সাকিব ঘোষণা দেন, টি-টোয়েন্টি আর টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে চান তিনি। যদি দলের প্রয়োজন পড়ে, সেক্ষেত্রে অবসর ভেঙে টি-টোয়েন্টিতে ফিরতে পারেন। অবশ্য সেসবের কিছুই হয়নি। সাকিব আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেননি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। পডকাস্টের আলাপচারিতার এক পর্যায়ে অবসর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে সাকিব জানান, দেশের মাটিতেই ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চান তিনি।
‘আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তো সব ফরম্যাট থেকে অবসর নিইনি। প্রথমবার বলতে যাচ্ছি আমার অবসরের প্ল্যান নিয়ে। আমার প্ল্যান হচ্ছে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া, একটা পুরো সিরিজ খেলা, মানে ওয়ানডে, টেস্ট, টি-টোয়েন্টি সব। এরপর অবসরে যাওয়া’, সাকিব বলেন।
এরপরই নুবাইদের পাল্টা প্রশ্ন, ‘এটা সম্ভব?’
সাকিবের সোজা উত্তর, ‘আমি আশাবাদী। এই কারণেই এখনো খেলে যাচ্ছি। আমার ধারণা, দেশে ফিরে অবসর নিতে পারব। আমি অবশ্যই চাই বাংলাদেশে ফিরতে। কারণ, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আমি বাংলাদেশে ফিরে যাব।’
২০২৪ সালে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়ন পেয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন সাকিব। মাগুরা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন । তবে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর সাকিবের দেশে ফেরা হয়ে যায় এক প্রকার অসম্ভব। যদিও জুলাই-আগস্টে ছাত্রজনতার আন্দোলনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে ছিলেন তিনি।
তবুও আবার রাজনীতি করতে চান সাকিব। ক্যারিয়ারে করার মতো আর কী বাকি আছে?, উপস্থাপকের এই প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ‘আমার ক্রিকেটের দিকটা মোটামুটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। সম্ভবত রাজনৈতিক দিকটা বাকি আছে। এই একটা জিনিস আমি বাংলাদেশ আর মাগুরার মানুষের জন্য করে যেতে চাই। এটাই আমার লক্ষ্য।’
এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তখনকার বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের সাথে দফায় দফায় আলোচনার পর দেশে ফিরতে চান দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে। সেবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে সাকিবের দেশে ফেরা হয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুবাই পর্যন্ত এসেও ফেরত যান সাকিব।
বাংলাদেশের হয়ে তার ক্যারিয়ার থেমে আছে ৭১ টেস্ট, ২৪৭ ওয়ানডে ও ১২৯ টি-টোয়েন্টিতে। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে না পারলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে তাকে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইএল টি-টোয়েন্টিতে খেলছেন এমআই এমিরেটসের হয়ে।


