ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জালের দেখা পেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে নকআউট পর্বে গোল না পাওয়ার বৃত্ত ভাঙলেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ২০ মিনিটে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পট কিক থেকে ক্রোয়াট গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচকে বোকা বানিয়ে বল ঠিক মাঝবরাবর জালে জড়ান সিআরসেভেন। তার এই নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে ১-১ সমতায় ফেরে পর্তুগাল। এর ঠিক দুই মিনিট আগেই অবশ্য একবার বল জালে জড়িয়েছিলেন তিনি, কিন্তু অফসাইডের কারণে রেফারি গোলটি বাতিল করে দেওয়ায় সেবার উদযাপন করা হয়নি তার।
এর আগে চারবার পর্তুগালকে নিয়ে গ্রুপ পর্ব পার করলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কখনো গোল পাওয়া হয়নি পর্তুগিজ অধিনায়কের। অবশেষে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এই গোলের মাধ্যমে ঘুচল সেই দীর্ঘ আক্ষেপ। বিশ্বমঞ্চে এটি রোনালদোর ১১তম গোল। এর মধ্য দিয়ে পর্তুগালের জার্সিতে বিশ্বকাপে নিজের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা আরও একটু সমৃদ্ধ করলেন তিনি। এবারের আসরে এটি তাঁর তৃতীয় গোল। এর আগে গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে দুর্দান্ত এক জোড়া গোল করেছিলেন তিনি।
চলতি আসরের ৩টি গোল বাদে বিশ্বকাপে রোনালদোর আগের আটটি গোলই এসেছিল গ্রুপ পর্বে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি চারটি গোল করেছিলেন তিনি। সেই আসরে স্পেনের বিপক্ষে করেছিলেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক এবং মরক্কোর বিপক্ষে পেয়েছিলেন একটি গোল। বাকি বিশ্বকাপগুলোতে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪ ও ২০২২) একটি করে গোলের দেখা পেয়েছিলেন তিনি।
নকআউটে এর আগে গোল না পেলেও দলকে নিয়ে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে রোনালদোর। ২০০৬ সালে জার্মানিতে নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। এরপর ২০১০ (দক্ষিণ আফ্রিকা) ও ২০১৮ (রাশিয়া) সালে শেষ ষোলো এবং ২০১৪ সালে (ব্রাজিল) গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল পর্তুগালকে। আর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে হেরে তাদের দৌড় থেমেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে এবার নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এসে নকআউটের প্রথম গোলটি পেয়ে নতুন এক ইতিহাস লিখলেন ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি।


