ভারত প্রতিবেশিসুলভ আচরণ না করায় বাংলাদেশের মানুষের মনে ‘ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট’ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
রোববার দুপুরে তার নিজ জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধায় মহানন্দা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে ফেসবুক লাইভে যুক্ত হয়ে একথা বলেন তিনি।
সারজিস বলেন, ‘ভোরে ভারত মহানন্দা নদীর উজানে তাদের স্লুইস গেট হঠাৎ করে খুলে দেওয়ায় বাংলাবান্ধায় একটি গ্রাম ঝুঁকিতে পড়েছে। নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। আমরা ভারতকে বলতে চাই, তারা যদি আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র হতে চায় তাহলে তাদের আচরণ প্রতিবেশি রাষ্ট্রের মতো হতে হবে।’
‘তারা মন চাইল পানি আটকে রাখল, মন চাইল ছেড়ে দিল। এমন কাজ করলে বাংলাদেশে অ্যান্টি ইন্ডিয়ান সেন্টিমেন্ট দিন দিন আরও প্রকট হবে। এটি দুই রাষ্ট্রের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক কোনো বার্তা দেবে না।’
নেপাল বা চীনে উৎপত্তিস্থল এমন নদীর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তারাও যদি এমন করে তাহলে ভারতকেও সমস্যায় পড়তে হবে। সবদিন কিন্তু ভারতের দিন নয়। দিন বাংলাদেশের এবং অন্য দেশগুলোরও দিন আসবে।’
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এই দেশ বা দেশের মানুষের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আচরণ ভারত কখনোই পাবে না বলেও মন্তব্য করেন সারজিস আলম।
নির্বাচন কমিশনের রুচিবোধ নিয়ে প্রশ্ন
বিকালে পঞ্চগড়ের শের-ই-বাংলা পার্কে বিভিন্ন এলাকার মসজিদ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সারজিস আলম। সেখানে তিনি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রতীকের তালিকায় মুলা-বেগুন থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘যে ধরনের মার্কা মানুষের হাসির খোরাক জোগায় তা নির্বাচন কমিশনের তালিকায় কীভাবে থাকে? এটাতো তাদেরও রুচিবোধের প্রকাশ। এই জায়গাটা তাদের ঠিক করা উচিত। আমাদের কেন বলে দিতে হবে একটা নির্বাচন কমিশনের মার্কায় মুলা-বেগুন-খাট-থালা-বাটি এগুলো থাকতে পারে না। দেশে কি মার্কার অভাব পড়েছে? আমরা আশা করছি এটা তারা সংশোধন করবে।’
আইনগত কোন বাধা না থাকায় এনসিপি শাপলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকের কথা ভাবছে না বলেও জানান সারজিস।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবশেষ তাদের সাদা শাপলা, লাল শাপলার অপশন দিয়েছিলাম। যদি একান্তই শাপলার সঙ্গে যদি কিছু যোগ করতে হয় তাহলেও আমাদের দ্বিমত থাকবে না।’
‘আমরা স্পষ্ট দেখছি নির্বাচন কমিশন স্বেচ্ছাচারিতা করছে। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তারা কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমন আচরণ করছে। এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। এর জন্য যদি আমাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হয় আমরা তা করব। আগামীর নির্বাচনে শাপলা নিয়েই আমরা নির্বাচন করব।’


