‘উপদেষ্টাদের “সেফ এক্সিটের” প্রয়োজন নেই। “সেফ এক্সিট” দরকার বাংলাদেশের’- এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, ‘জাতি হিসেবে “সেফ এক্সিটের” প্রয়োজন রয়েছে। বিগত ১৬ বছর আমরা যে পরিমাণ দুঃশাসন, গুম-খুন ও লুটপাট দেখেছি; অসুস্থ, ভয়াবহ, আত্মধ্বংসী কাঠামো থেকে আমাদের অবশ্যই “সেফ এক্সিটের” দরকার আছে।’
শনিবার সকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫’ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় এসব কথা বলেন আইন উপদেষ্টা।
‘উপদেষ্টা হিসেবে কারও সেফ এক্সিটের দরকার নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেকেই “সেফ এক্সিটের” কথা বলছেন। উপদেষ্টা হিসেবে আমাদের “সেফ এক্সিটের” প্রয়োজন নেই। তবে ভয়াবহ রাষ্ট্র কাঠামো থেকে পুরো জাতির “সেফ এক্সিট” হওয়া দরকার।’
রাষ্ট্রপতি কখনোই স্বাধীনভাবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেননি দাবি করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই নিয়োগ সবসময় ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় হয়েছে।’
‘ভালো আইন করা মানেই পুরো দেশটা পরিবর্তন হয়ে যাবে, এটা আশা করার বয়স আমার নেই। আইন করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার সংখ্যা কম। তবে প্রতিষ্ঠান করার ক্ষেত্রে আমাদের ব্যর্থতা সীমাহীন। কারণ অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে’, বলেও জানান তিনি।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘ভালো আইন হচ্ছে একটি ভিত্তি। কিন্তু তা নিয়ে বেশি আশার করার কিছু নেই। আশা করবো হিউম্যান রাইটসের (মানবাধিকার) যে আইনটা হয়েছে, সেটি যেন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।’
হিউম্যান রাইটস কমিশনকে শক্তভাবে দাঁড় করাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানকে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে হবে উচ্চ আদালত এবং সংসদীয় কমিটি।’


