অনলাইনে সহজ কাজের মাধ্যমে উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. হারুন অর রশিদ (২৯)। তিনি জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার বুরুঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সম্প্রতি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলত। তারা মূলত ‘অনলাইন টাস্ক’ বা নির্দিষ্ট পোস্টে লাইক-শেয়ার এবং লিংকে ক্লিক করার মতো সহজ কাজের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখাত।
শুরুতে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনে তারা ছোট ছোট কাজের বিপরীতে কিছু টাকা পরিশোধ করত। কিন্তু একবার বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করলে, বড় অঙ্কের মুনাফার টোপ দিয়ে বড় ‘টাস্ক’ সম্পন্ন করার শর্তে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে বাধ্য করত।
এভাবে চক্রটি বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের ফেসবুক পেজে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের মাধ্যমে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হলে সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব নেয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত করেন এবং তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এর প্রেক্ষিতে গত শনিবার মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরার পথে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন হারুন অর রশিদ। পরবর্তীতে রোববার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিআইডি হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হারুন অর রশিদ এই ভয়াবহ প্রতারণার সঙ্গে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


