‎ফরিদপুরে তিন দিনে নারীসহ তিন খুন

‎ফরিদপুরে তিন দিনে নারীসহ তিন খুন
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

ফরিদপুরে তিন দিনে পারিবারিক সহিংসতা ও জমি নিয়ে বিরোধের আলাদা আলাদা ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার সকাল থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, সালথা ও সদরপুর উপজেলায় এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আলফাডাঙ্গায় ঈদের দিন সকালে ছেলের আঘাতে ফুলজান বেগম (৬০) নামের এক নারী এবং বোয়ালমারীতে ফিরোজা বেগম (৭১) ও সদরপুরে সিরাজুল ইসলাম (৫৭) নামের দুজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

‎সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যায় সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামে বসতবাড়ির গাছ কাটা নিয়ে সিরাজুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মাসুদ রানা (৪০) নামের একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

‎জানা গেছে, নিহত কাজী সিরাজুল ইসলাম (৫৭) মানিকগঞ্জে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার বিকালে তিনি কর্মস্থল থেকে বাড়ি গিয়ে দেখতে পান, কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে। ভাতিজা সুমনের কাছে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে না পারায় চাচা সিরাজুলের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

‎একপর্যায়ে সুমন (৪০) ও তুষার (৩২) দুই ভাই চাচা সিরাজুলকে হাতুড়ি ও কাঠের বাটাম দিয়ে বেদম মারধর করেন। এ সময় অপর ভাতিজা মাসুদ রানা (৪০) ঠেকাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা গুরুতর আহত সিরাজুলকে শহরের হার্ট ফাউন্ডেশনে নেন। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা থানায় কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

‎ঈদের দিন সকালে আলফাডাঙ্গায় ছেলে হাসান শেখের কোদালের কোপে নিহত হন ফুলজান বেগম। ওই দিন সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বানা ইউনিয়নের পণ্ডিত বানা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ফুলজান বেগম ওই গ্রামের হাফিজার শেখের স্ত্রী। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হোসেন শেখকে (২৫) বিয়ের পরপরই তার স্ত্রী ছেড়ে চলে যান। তার পর থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের শ্রমিকের কাজ করেন এবং একাকী জীবন যাপন করেন। ঘটনার দিন সকালে হোসেন শেখের ঘরের সামনে তার মা ফুলজান বেগম ফুলগাছের চারা রোপণ করতে যান। এ নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হোসেন শেখ কোদাল দিয়ে তার মা ফুলজান বেগমের মাথায় কোপ দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

‎আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

‎এদিকে ঈদের আগের দিন বোয়ালমারীতে জমি নিয়ে বিরোধে ফিরোজা বেগমকে (৭১) পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বনচাকী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফিরোজা বেগম ওই গ্রামের মৃত মুক্তার মোল্লার স্ত্রী।

‎পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র বলেছে, ফিরোজা বেগমের সঙ্গে বাবার সম্পত্তি নিয়ে পাশের রামচন্দ্রপুর গ্রামের টুলু মিয়া ও তার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই জমি নিয়ে আদালতে মামলার পর রায় ফিরোজা বেগমের পক্ষে হয়। তবে আদালতের রায় অমান্য করে টুলু মিয়ারা জমি দখল করে রেখেছিলেন। ওই জমিতে গত বুধবার ফিরোজা বেগম শৌচাগার নির্মাণ করতে গেলে টুলু মিয়া (৪৫), তার ভাই বাচ্চু মিয়া (৫৫), রসুল মিয়া (৭৫) ও বাচ্চু মিয়ার ছেলে বাপ্পি মিয়া (২৭) তাকে মারধর করেন। কিলঘুষি ও লাথিতে আহত হলে ফিরোজাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এই ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর