ব্যাংককের আলপাইন ট্রেনিং ক্যাম্পের দুই নম্বর পিচে বৃহস্পতিবার সকালের তপ্ত রোদ। ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৯টা। আগের দিন থাম্মাসাত স্টেডিয়ামে যে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা সঙ্গী হয়েছিল, তা পিঠ থেকে নামিয়ে এদিন রিকভারি সেশনে ঘাম ঝরিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। মাঠের লড়াইয়ে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হার মানতে হয়েছে লাল-সবুজদের। টুর্নামেন্টের শুরুতেই এমন জয়ের খুব কাছে গিয়েও পরাজয় মেনে নেওয়াটা যেন কোনোভাবেই ভুলতে পারছে না পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
বুধবারের সেই ম্যাচে ইতিহাস গড়ার সব রসদই ছিল বাংলাদেশের কাছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম গোলের গৌরব অর্জন করেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। ৩৬ মিনিটে মমিতা খাতুনের সেই চেরা পাসে রক্ষণ ভেদ করে সাগরিকার ক্লিনিকাল ফিনিশিং ছিল এক কথায় নজরকাড়া। দ্বিতীয় অর্ধেও একই ছন্দে সাগরিকা যখন ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন, তখন মনে হয়েছিল থাইল্যান্ড হয়তো স্রেফ খেই হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল। অপ্রয়োজনীয় দুটি পেনাল্টি আর রক্ষণভাগের আচমকা ধসে মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট। দাপুটে ফুটবল থেকে বাংলাদেশ তখন হয়ে পড়ে রক্ষণাত্মক ও দিশেহারা।
ম্যাচ শেষে আজ অনুশীলনের ফাঁকে সাগরিকার কণ্ঠে পাওয়া গেল ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলগত হারের আক্ষেপ। জোড়া গোল করেও দলকে জেতাতে না পারার যাতনা তাকে পুড়িয়েছে। সাগরিকা বলেন, ‘থাইল্যান্ড নিঃসন্দেহে শক্তিশালী দল। প্রথমার্ধে আমরা দারুণ খেলেছি, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যখন গোলগুলো খেয়ে বসলাম, তখন দলের সবার মানসিক অবস্থা একটু নুয়ে পড়েছিল। নিজের প্রথম ম্যাচে দুটি গোল করে ভালো লাগছিল ঠিকই, কিন্তু ম্যাচটি হেরে যাওয়ার পর সব ম্লান হয়ে গেছে।’ সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘টিম সাপোর্ট না দিলে আমি গোল করতে পারতাম না। এখন আমার লক্ষ্য আগামী ম্যাচ, ইনশাআল্লাহ সেখানে ভালো কিছু নিয়ে মাঠ ছাড়ব।’
দলের এই পরাজয়কে সামান্য ভুল হিসেবেই দেখছেন সহকারী কোচ আবুল হোসেন। তার মতে, ৭০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচটি বাংলাদেশের মুঠোতেই ছিল। আজ রিকভারি সেশনে কোচিং স্টাফদের মূল মনোযোগ ছিল খেলোয়াড়দের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং গত ম্যাচের ত্রুটিগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া। আবুল হোসেন জানান, ‘আমাদের মেয়েরা দুই গোলের লিড নিয়েছিল, কিন্তু ছোটখাটো কিছু ভুলে গোল হজম করতে হয়েছে। কোচ আমাদের ইনস্ট্রাকশন দিয়েছেন কীভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। চার তারিখ চীনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, বিগত দিনের ভুলগুলোকে আমরা এখন শক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে চাই।’
সাগরিকার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের প্রশংসা করতেও ভোলেননি কোচিং স্টাফরা। তবে সহকারী কোচের কথায় ফুটে উঠল সাম্যের গান ‘সাগরিকা চমৎকার খেলে নিজেকে প্রমাণ করেছে, তবে আমাদের কাছে প্রতিটি খেলোয়াড়ই সমান। কেউ যখন জ্বলে ওঠে, সেটা তার কৃতিত্ব। আমরা দলগতভাবে এগোতে চাই।’ ব্যাংককের এই আলপাইন ক্যাম্প থেকেই চীনের বিপক্ষে এক নতুন লড়াইয়ের নীল নকশা আঁকছে বাংলাদেশ।


