আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৮০ মিনিটের কিছু বেশি সময় মাঠে ছিলেন লিওনেল মেসি। আর এই সামান্য সময়ই ফুটবল ইতিহাসের একগুচ্ছ রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল তার জন্য।
আর্জেন্টিনার হয়ে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে তিনি এখন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন। একই সঙ্গে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার অনন্য কীর্তিও গড়েছেন তিনি।
৩৮ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ হ্যাটট্রিককারী খেলোয়াড় হিসেবেও নাম লিখিয়েছেন তিনি।
বয়স ৩৯-এর কোঠায় পৌঁছালেও এই ফুটবল জাদুকরের ঝুলিতে যে কত চমক জমা আছে, তা যেন অনুমান করা অসম্ভব। কানসাস সিটির সেই ঐতিহাসিক রাতে তিনি আবারও বিশ্বকে দেখালেন কেন তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ আর গোলরক্ষকদের জন্য এক জীবন্ত দুঃস্বপ্ন।
ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে তথা আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানকে সেই নির্মম সত্যেরই মুখোমুখি হতে হয়েছে। টুর্নামেন্টটি কেবল শুরু হলো, এর রেশ কাটতে এখনও এক মাসের বেশি সময় বাকি; অথচ ভক্তরা এখনই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন ২০৩০ সালের পরবর্তী আসরেও মেসির উপস্থিতি দেখার!
২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪২ বছর। ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা, ততদিনে তার নামের পাশে আরও অনেক গোল, অ্যাসিস্ট এবং অবিশ্বাস্য সব রেকর্ডের পাহাড় জমবে। মেসি নিজেও এর আগে বহুবার স্পষ্ট করে বলেছেন, শরীর ও পা সায় দেওয়া পর্যন্ত তিনি মাঠের লড়াই চালিয়ে যাবেন, বয়স তার কাছে কোনো বড় বাধা নয়।
এই কারণে খেলা শেষে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করতে দ্বিধা করেননি–ভবিষ্যতে তার সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না? তবে চার বছর পরের সেই বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনাকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়ে হেসে হেসেই মেসি জবাব দেন, ‘না, না, এটা একদমই সম্ভব নয়, হাহা।’
আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পুরো মনোযোগ এখন শুধুই চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের ওপর। তার লক্ষ্যও একদম পরিষ্কার–আটটি ম্যাচই খেলে আর্জেন্টিনাকে আবারও বিশ্বমঞ্চের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে শেষ করেন এই বলে যে, তারা শিরোপার জন্য লড়বেন এবং নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবেন। চিরপ্রতিদ্বন্দী মানসিকতার এই ফুটবল ঈশ্বর অবশ্য কেবল এই বড় টুর্নামেন্টের কথাই ভাবছেন না, বরং নিজের মহিমান্বিত ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টি যে দারুণভাবে উপভোগ করছেন, তা তার শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট।


