চাকরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে ‘রাজার সনদ’ প্রথা বাতিলসহ ৮ দফা দাবিতে আগামী ১৩ অক্টোবর বান্দরবানে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।
৮ দফার মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন-১৯০০ বাতিল, প্রত্যাহার করা ২৪৬টি সেনা ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবিও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় একটি কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মজিবুর রহমান এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাজী মজিবুর রহমান বলেন, দেশের ৬১ জেলা পরিচালিত হচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলায় চাকরি, শিক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়সহ সব ধরনের ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে বৃটিশ আমলের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধির অধীনে। এটি সংবিধানের স্পষ্ট লংঘন। এতে এখানে বসবাসকারী বাঙালি সমাজ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শান্তিচুক্তির নামে পাহাড়ের দুর্গম এলাকাগুলো থেকে শত শত নিরাপত্তা ক্যাম্প তুলে নেয়ার কারণে বিশাল এই অঞ্চল সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছে।
‘রাজার সনদ’ বলতে বান্দরবানের বোমাং রাজার দেওয়া একটি প্রত্যয়নপত্র বা জমি সংক্রান্ত প্রমাণপত্রকে বোঝায়। সরকারি চাকরি বা জায়গা-জমি রেজিস্ট্রি করতে এই সনদ প্রয়োজন পড়ে। সনদটির অফিশিয়াল মূল্য ২০০ টাকা। অথচ এলাকাবাসীর অভিযোগ, সনদ পেতে হলে দিতে হয় ৩০ হাজার টাকারও বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারি কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষা কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থার গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, গণমাধ্যমকর্মী এবং জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহন, হাসপাতাল, ফার্মেসি ও খাবারের দোকান হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের তোলা দাবিগুলো হলো:
ব্রিটিশ রচিত প্রহসনের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল করে সংবিধানের আলোকে তিন পার্বত্য জেলার শাসন ব্যবস্থা চালু করা। জমি ক্রয়-বিক্রয়, চাকরি, শিক্ষাসহ সবক্ষেত্রে ‘রাজার সনদ’ বাতিল করা। ৬১ জেলার মতো রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু করা। বাজার ফান্ড প্লটের লীজের মেয়াদ ৯৯ বছরে উন্নীত করা ও বন্ধ রাখা ব্যাংক ঋণ আবার চালু করা।
উন্নয়নের স্বার্থে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় পরিবেশ বান্ধব ইটের ভাটাসহ কলকারখানা ও ইন্ডাস্ট্রি চালু করা। আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে তিন পার্বত্য জেলায় প্রত্যাহার করা ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন করা। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে চাঁদাবাজি, গুম, খুন, ধর্ষণ বন্ধ করে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে তিন পার্বত্য জেলায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, চাকরিসহ সবক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।


