ইরান যুদ্ধের জেরে কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের চালু করতে প্রায় ৩৫ দেশের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি (অনলাইন) বৈঠকে অংশ নেবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ যুক্তরাজ্যের মিত্রদেশের প্রতিনিধিরা।
মূলত বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করতে যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ভার্চুয়াল এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার। তিনি বলেন, ‘আমরা কীভাবে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা যায়, আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ আবার শুরু করা যায়-সেসব বিষয়ে সব ধরনের কার্যকর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ বৈঠকে পর্যালোচনা করব।’
এদিকে বিশ্বের প্রায় ৩৬টি দেশ বৈঠকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে না। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি ছাড়া অচল, তাদেরই এটি খুলতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত তেলের মজুত আছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা আছে। মিত্র দেশগুলোকে হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থেকে বেশি দামে তেল কিনতে হবে অন্যথায় নিজেদের তেলের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে।’
অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোনো দেশই সামরিক শক্তি ব্যবহার করে প্রণালি খুলতে আগ্রহী নয়। যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিয়ে অন্য কোনো দেশ যুদ্ধে জড়ালে পারস্য উপসাগরে সেসব দেশের জাহাজ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সমুদ্র মাইন কিংবা নৌযান হামলার শিকার হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বুধবার জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হলে কীভাবে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে কয়েকটি দেশের সামরিক পরিকল্পনাবিদরা শিগগিরই বৈঠকে বসবেন।
স্টারমার বলেন, নৌচলাচল পুনরায় চালু করা সহজ হবে না। এর জন্য সামরিক শক্তি, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং নৌপরিবহন খাতের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।
এদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩৫টি দেশ একটি যৌথ বিবৃতিতে সই করেছে। এতে ইরানকে হরমুজ প্রণালি অবরোধের চেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ কিছুটা সেই জোটের মতো, যা যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের একটি উদ্দেশ্য হলো ট্রাম্প প্রশাসনকে দেখানো যে ইউরোপ নিজস্ব নিরাপত্তা জোরদারে আরও সক্রিয় হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটো থেকে সরে যেতে পারে। এতে ইউরোপীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।


