সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে মিরপুর মডেল থানার হত্যা মামলায় পুনরায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি মিরপুর বিভাগের এসআই কফিল উদ্দিন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালের ১/১১ এর কুশীলব মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তারেক রহমানকে পিটিয়ে কোমড় ভেঙে দিয়েছেন।’ তখন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলে উঠেন ‘এটা মিথ্যা ‘। পরে আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, ‘ডিফেন্সের লোক হওয়ায় তারা রিমান্ডে ভাসাভাসা তথ্য দিচ্ছেন। আওয়ামী সময়ের সব গুম, খুনের কারিগর তারা। আস্তে আস্তে তথ্য আশা শুরু করেছে। সুতরাং পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেতে তাকে আবার রিমান্ডে পাঠানো হোক।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। তিনি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিভিন্ন শারিরীক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এ মামলায় তাকে দুই দফায় আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। কী পেলেন তদন্ত কর্মকর্তা, তা কিন্তু উল্লেখ করেননি। ১৫ দিন তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। জোর করে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের দয়া চাচ্ছি, যেন তার অসুস্থতা বিবেচনা করে তাকে রিমান্ডে না নেওয়া হয়।’
এর আগে ১১ এপ্রিল আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন ১২ এপ্রিল তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করে নতুন করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও অনেক তথ্য গোপন করছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্যদের ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং আসামির দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করার স্বার্থে তাকে পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানো হয়। আসামিরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছুড়তে থাকেন। এতে আন্দোলনে অংশ নেয়াও দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২১ জুলাই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
এর আগে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করা হয়। পরদিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।


