সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের লাঞ্চ ব্রেকের পর দ্বিতীয় বল। নাহিদ রানার হাত থেকে ছুটে গেল একটা বাউন্সার। ১০৫ বল খেলে আইরিশদের আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলতে থাকা অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন আর আটকে রাখতে পারলেন না নিজেকে। পুল শট খেললেন বটে, তবে শর্ট মিড উইকেটে ধরা পড়লেন হাসান মুরাদের হাতে। ২১৫ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করা আয়ারল্যান্ডও এরপর আর বেশি দূর যেতে পারল না। অল আউট হলো ২৫৪ রানে। এক ইনিংস ও ৪৭ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
তৃতীয় দিন ৮৫ রানে ৫ উইকেট হারানো আইরিশদের ইনিংস একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন ম্যাকব্রাইন। ছুঁয়েছেন পঞ্চম ফিফটি। সবচেয়ে বড় ৬৬ রানের জুটিও এসেছে তার সাথে অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবার্নির ব্যাটে। অবশ্য জীবনও পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে। ৩৩ তম ওভারে মিরাজের বল তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে লিটনের গ্লাভসে লেগে সোজা যায় শান্তর দিকে, কিন্তু প্রথম স্লিপে থাকা শান্ত শেষ পর্যন্ত বল জমাতে পারেননি নিজের হাতে।
আগের দিন শেষ বিকেলে স্পিন জাদু দেখানো মুরাদ আর তাইজুল চতুর্থ দিনও হাজির হলেন দাপুটে চেহারায়। দুজন মিলে নিয়েছেন ৭ উইকেট। ম্যাথু হামফ্রিসকে ফিরিয়ে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন তাইজুল। ইনিংসের ৩৪-তম ওভারের শেষ বলে তাইজুলকে স্লগ সুইপ করে স্কয়ার লেগে সাদমানের হাতে ক্যাচ দেন ম্যাথু।
অবশ্য দিনের শুরুতেই তার উইকেট পেতে পারতেন তাইজুল, যদি সিলি পয়েন্টে মুমিনুল ক্যাচটা ধরতে পারতেন। সেই সাফল্যের পর উইকেটের দেখা পেতে অবশ্য প্রায় ২০ ওভার অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ৬৬ রানের জুটিতে ম্যাকব্রাইন আর বালবার্নি মিলে খেলেছেন ১১৯ বল। বালবার্নিকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে অস্বস্তি দূর করেন মুরাদ। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করলে সোজা গিয়ে লাগে প্যাডে। রিভিউ নিলেও হয়নি শেষ রক্ষা। ৩৮ রানে থামেন আইরিশ অধিনায়ক।
চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে অবশ্য জর্ডান নিল আর ব্যারি ম্যাকার্থি অবশ্য চড়ে বসেছিলেন বাংলাদেশের দুই বোলার নাহিদ রানা আর হাসান মুরাদের ওপর। পরপর দুই ওভারে দুটি করে চার তারা হজম করেছেন দুই আইরিশ টেইলএন্ডারের হাতে। সুইপ, স্লগ সুইপ, কভার ড্রাইভ সবই ছিল নবম উইকেটে আয়ারল্যান্ডের রেকর্ড ৫৪ রানের জুটিতে। নিলকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন মুরাদ, নেন নিজের চতুর্থ উইকেটে। আইরিশদের শেষ ব্যাটার হিসেবে ম্যাকার্থি উইকেট দিয়েছেন তাইজুলকে।
৩০১ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা আয়ারল্যান্ড ৮৬ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশের স্পিন জাদুতে। দিনের নিভু নিভু আলোতে বাংলাদেশ মাঠ ছাড়ে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সুবাস গায়ে মেখে।
প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা অভিষিক্ত ওপেনার চ্যাড কারমাইকেল বৃহস্পতিবার ইনিংস বড় করতে পারেননি। সিলেটের শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে নাহিদ রানার দারুণ গতির এক ইনসুইংগারে ব্যাট ছুঁইয়ে বোল্ড হন এই ডানহাতি ব্যাটার। এরপর হ্যারি টেক্টরকে নিয়ে ৫৭ রানে জুটিতে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন পল স্টার্লিং। শেষ পর্যন্ত মিলিমিটারের ব্যবধানে রান আউট হতে হয় ৪৩ রানের ইনিংস খেলা স্টার্লিংকে।এরপর হ্যারি টেক্টর ফিরেছেন তাইজুলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। অভিষিক্ত মুরাদের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শর্ট কভারে সাদমানের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন কার্টিস ক্যাম্ফার। লরকান টাকারও এলবিডব্লিউ হয়েছেন তার বলের লাইন মিস করে।
এর আগে আয়ারল্যান্ডের ২৮৭ রানে জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩০১ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১, শান্তর ১০০, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক ও লিটন দাসের ফিফটিতে ৫৮৭/৮ রানে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংসের রেকর্ড গড়ার দিনে দুটো সেঞ্চুরি, আর দুটো ৮০ পেরোনো ইনিংসে পর অবশ্য আরো একটা রেকর্ড হয়েছে বাংলাদেশের। নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রথম চার ব্যাটার খেললেন ৮০ বা ততোধিক রানের ইনিংস। হয়েছে ফিফটির রেকর্ডও, এক ইনিংসে পঞ্চমবারের মতো বাংলাদেশের পাঁচ ব্যাটার পেরিয়ে গেছেন ফিফটি।


