ঝিনাইদহের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এবার অনুষ্ঠিত হয়নি পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ব্যাপক প্রস্তুতি ও মাইকিং করা হলেও ঈদের দিন সকালে হঠাৎ করে জামাত স্থগিত হওয়ায় জেলা শহরের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, শহরের উজির আলী স্কুল মাঠে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রধান জামাত আয়োজনের কথা ছিল। এখানে জেলার সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদগাহ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক, এবং জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রায় এক মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়।
এবারও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়। গত ১০ মার্চ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতি সভায় সকাল ৭টায় প্রধান জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়। সাজসজ্জা, প্যান্ডেল নির্মাণ ও অন্যান্য ব্যয়সহ প্রায় ৩ লাখ টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়। ঈদগাহ ফান্ড থেকেই এ ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী ময়দানের প্রাচীর রং করা, তোরণ নির্মাণ এবং বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়।
তবে ঈদের দিন সকালে নির্ধারিত সময়ে ঈদগাহ ময়দানে গিয়ে মুসল্লিরা দেখতে পান, সেখানে কমিটির কোনো সদস্য বা খতিব উপস্থিত নেই। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই জামাত স্থগিত করা হয়েছে জেনে অনেকেই হতাশ হয়ে অন্য মসজিদ বা ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন।
শহরের আদর্শ পাড়ার বাসিন্দা আহসান হাবিব রওনক বলেন, ‘সকাল ৭টায় জামাত হওয়ার কথা ছিল। পরিবার নিয়ে গিয়ে দেখি লোকজন ফিরে আসছে। পরে জানতে পারি বৃষ্টির অজুহাতে জামাত বাতিল করা হয়েছে। অথচ তখন বৃষ্টি ছিল না। কোনো ঘোষণা না দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি।’
পিকুল হোসেন নামের আরেকজন বলেন, ‘প্রতি বছর এই ঈদগাহে নামাজ পড়ি। গত বছর ভারী বৃষ্টিতেও জামাত হয়েছে। এবার সামান্য বৃষ্টির অজুহাতে জামাত বাতিল করা হয়েছে, কিন্তু সেটা মাইকিং করে জানানো হয়নি। ফলে মানুষ এসে হয়রানির শিকার হয়েছে।’
কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঈদগাহ কমিটির খামখেয়ালিপনা ও প্রশাসনের অবহেলার কারণে মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং বার্তারও কোনো জবাব দেননি। ঝিনাইদহ পৌর প্রশাসক রবীন্দ্রনাথ রায়ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কেন্দ্রীয় ঈদগাহের নির্ধারিত খতিব শায়েখ সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমার মতে ঈদগাহে নামাজ আয়োজনের মতো পরিস্থিতি ছিল। জামাত না হওয়ায় আমিও মর্মাহত। সকাল ৬টা ২০ মিনিটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে ঈদগাহে জামাত হবে না। পরে পুরাতন ডিসি কোর্ট মসজিদে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ডিসি ও এসপি জামে মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন।’
ঘটনাটি নিয়ে শহরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


