শীতের রাতের কমলাপুর স্টেডিয়ামে তখন কুয়াশার চাদর। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে নারী ফুটবল লিগের ম্যাচটি যখন শুরু হলো, কেউ কল্পনাও করেনি গ্যালারিতে উপস্থিত হাতেগোনা দর্শকরা এক অভাবনীয় নাটকের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন। একদিকে গোলের মালা গাঁথল ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব, অন্যদিকে মাঠ রূপ নিল রণক্ষেত্রে। ফুটবলারদের মেজাজ হারানো, হাতাহাতি আর লাল কার্ডের মিছিলে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকল খেলা। শেষ পর্যন্ত কাচারিপাড়া উন্নয়ন সংস্থাকে ২৩-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নারী লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়েছে আবু ফয়সাল আহমেদের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ফরাশগঞ্জের। কিন্তু ২১ মিনিটে বদলে যায় সব। সাবিত্রী ত্রিপুরা পেছন থেকে ফেলে দেন মনিকা চাকমাকে। রেফারির বাঁশি না বাজায় মেজাজ হারান মনিকা; তিনি টেনে ধরেন সাবিত্রীকে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই উত্তেজনা রূপ নেয় হাতাহাতিতে। টার্ফে পড়ে যান দুজন। অবাক করা বিষয় হলো, সতীর্থদের থামাতে আসার বদলে ফরাশগঞ্জের তহুরা খাতুন ও মারিয়া মান্দারা যেন উল্টো বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। নারী ফুটবলের মাঠে এমন মারমুখী ভঙ্গি ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।
তীব্র উত্তেজনার মুখে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ১৫ মিনিট। কাচারিপাড়ার খেলোয়াড়রা রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। দীর্ঘ আলোচনার পর রেফারি মনিকা চাকমা ও শেখ সামিয়া আক্তারকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। পরে লাল কার্ড দেখেন সাবিত্রীও। হলুদ কার্ড জোটে ফরাশগঞ্জ অধিনায়ক মারিয়ার কপালে।
উত্তাপ প্রশমিত হওয়ার পর শুরু হয় ফরাশগঞ্জের গোল-উৎসব। প্রথমার্ধে ৮ গোল করার পর দ্বিতীয়ার্ধে তারা জালের দেখা পায় আরও ১৫ বার। অধিনায়ক মারিয়া মান্দা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র করেছেন জোড়া হ্যাটট্রিক। হ্যাটট্রিক পেয়েছেন তহুরা খাতুনও। শামসুন্নাহার সিনিয়রের জোড়া গোলের পাশাপাশি স্কোরশিটে নাম লিখিয়েছেন মনিকা, সামিক্ষা, অনামিকা ও প্রীতিসহ অনেকে। ভুটান নারী লিগের বড় জয়ের রেকর্ড নিয়ে বিদ্রুপ করা কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরাই যেন এবার সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেলেন।
দিনের প্রথম ম্যাচে সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয়ের খাতা খুলেছে পুলিশ এফসি। সানজিদা আক্তারের গোলে এগিয়ে যাওয়া দলটি পরে জয় নিশ্চিত করে। তবে মাঠের ফুটবলের খবর ছাপিয়ে আলোচনায় বাফুফের চরম অব্যবস্থাপনা। রাত ৮টায় শুরু হওয়া ম্যাচ ১০টার পর শেষ হলেও ফল জানাতে মধ্যরাত পার করে দেয় ফেডারেশন। নারী লিগের প্রচারের জন্য মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হলেও সাংবাদিকদের জন্য নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা বা পেশাদার সহযোগিতার অভাব ছিল স্পষ্ট।


