‘বাংলাদেশে তাদের পরিচয় অপরাধী, আইনের চোখে তারা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ বা অর্থ আত্মসাতের মতো অভিযোগ। অথচ আওয়ামী লীগের নির্বাসিত এই নেতারা কলকাতার শপিং মলের জনাকীর্ণ ফুড কোর্টে বসে, কালো কফি আর ভারতীয় ফাস্ট ফুডের স্বাদ নিতে নিতে বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ছক কষছেন।’
আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা ভারতে বসে দেশে ফেরার রাজনৈতিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন উল্লেখ করে মঙ্গলবার প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনটি শুরু হয়েছে এভাবেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তীব্র ছাত্র-গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হলে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে তার সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নেতারাও।
যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অসংখ্য মামলা রয়েছে, কোনো কোনো মামলার রায়ে কারও কারও মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। কারাদণ্ডসহ অন্যান্য সাজা তো রয়েছেই।
প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় প্রকাশ হয়েছে। যেটি তৈরি করেছেন দ্য গার্ডিয়ানের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিনিধি হান্না এলিস পিটারসন আর তাকে সহায়তা করেছেন প্রতিবেদক আকাশ হাসান।
এমন এক সময় এই প্রতিবেদন প্রকাশ হলো যখন বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা।
ভারতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রসঙ্গে গার্ডিয়ান লিখেছে, ‘১৬ মাসেরও বেশি সময় আগে, বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক গণবিপ্লব তাকে নাটকীয়ভাবে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করে। বিক্ষোভকারীরা তীব্র স্রোতের মতো যখন তার বাসভবনের দিকে ধেয়ে আসছিল, তখন তিনি আকাশপথে ভারতে পাড়ি জমান। পেছনে রেখে যান রক্তাক্ত রাজপথ। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে বিক্ষোভকারীদের ওপর শেখ হাসিনার শাসনামলের দমন-পীড়নে অন্তত ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছে।’
‘শেখ হাসিনার পর গণপিটুনি ও নানা অপরাধের দায়ে মামলার মুখে তার দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীও দেশ ছেড়ে পালান। বর্তমানে ছয় শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের কলকাতা শহরে আশ্রয় নিয়ে আত্মগোপন করে আছেন।’
এ অবস্থায় দলের কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক কাঠামো টিকিয়ে রাখতে ভারত তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত বছরের মে মাসে চাপের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। একই সময়ে হত্যা ও দুর্নীতিসহ একাধিক অপরাধের দায়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলটির প্রচার বা অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছর শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, সে বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে গার্ডিয়ান লিখেছে, শেখ হাসিনা এটা মানতে নারাজ যে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। তিনি এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দেশে ফেরার জন্য নানা পরিকল্পনা করছেন।
গার্ডিয়ানের দাবি, আগামী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে শেখ হাসিনা তার কর্মী সমর্থকদের উস্কানি দিচ্ছেন।
শেখ হাসিনা কোথায় আর কেমন পরিবেশে আছেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তার একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টাও প্রতিবেদনটিতে করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, ‘ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গোপন আস্তানা থেকে শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত ঘণ্টার পর ঘণ্টা মিটিং করেন এবং কথা বলে সময় কাটান। তার এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ভারত সরকারের সতর্ক নজরদারিতেই চলছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন ভারত তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাকে হস্তান্তরে বারবার অনুরোধ জানালেও ভারত সরকার তা এড়িয়ে গেছে।’
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত এক বছরে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সদস্যসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। তারা শেখ হাসিনার সঙ্গে রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনও ছিলেন।
সাদ্দাম হোসেন গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার যোগাযোগ রয়েছে। দলের কর্মী, নেতা, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তিনি আমাদের দলকে আসন্ন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করছেন।’
সাদ্দাম যে সংগঠনের সভাপতি সেই ছাত্রলীগকে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলা থাকলেও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাদ্দাম।
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) দিনে প্রায় ১৫-১৬ ঘণ্টা মিটিং বা ফোনকলে থাকেন। আমাদের নেত্রী অত্যন্ত আশাবাদী যে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। আমরা বিশ্বাস করি শেখ হাসিনা বীরের বেশে ফিরে যাবেন।’
শেখ হাসিনার অধীনে গত দুটি নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন হবে গত এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।
তবে আওয়ামী লীগের দাবি, এবারের নির্বাচনে তাদের অংশ নিতে না দেওয়াটা গণতান্ত্রিক বৈধতাকে নষ্ট করছে। দলটির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মুহাম্মদ ইউনূস তাদের নেত্রীর ওপর ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছেন। যেহেতু ইউনূস এক সময় শেখ হাসিনার নিগ্রহের শিকার হয়েছিলেন এবং তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিলেন।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাছে মুহাম্মদ ইউনূস ‘শয়তানের প্রতিরূপ’। অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে এসেছেন ইউনূস।
সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে কথা বলেছে গার্ডিয়ান। তিনিও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি, তিনিও অপরাধ অস্বীকারই করেছেন।
তিনি গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমরা আমাদের দলের কর্মীদের বলেছি এই নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে। নির্বাচনের প্রচার ও ভোট বর্জন করতে এবং এই প্রহসনের প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই অংশগ্রহণ না করতে।’
গার্ডিয়ান বলছে, ‘বাংলাদেশে গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের শাসনকে যারা স্বৈরতন্ত্র বলে মনে করেন তারা যখন দেখছেন যে দলটি হঠাৎ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলছে, তখন সেই মানুষদের মনে চরম সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।’
‘মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে সমালোচক ও বিরোধী মত প্রকাশকারীদের ওপর নিয়মিত দমন-পীড়ন চালানো হতো। হাজার হাজার মানুষকে গুম করা হয়েছিল, গোপন কারাগারে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেকেই সেই গোপন কারাগার থেকে মুক্তি পান। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছিল পদদলিত, আর নির্বাচন পরিণত হয়েছিল প্রহসনে।’
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে নতুন গণতান্ত্রিক পথে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের বিরুদ্ধেও কিছু অভিযোগ উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যার মধ্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার, বাকস্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয় রয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ট্রাইব্যুনালটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পুরোপুরি বজায় রাখেনি বলেও সমালোচনা রয়েছে।
কলকাতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা গার্ডিয়ানের কাছে দাবি করেন, প্রতিশোধের নামে তাদের শত শত কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, যারা জেলে রয়েছেন তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা কারাবরণের ভয়ে কলকাতায় নেই; আমরা এখানে কারণ দেশে ফিরলে আমাদের মেরে ফেলা হবে।’
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা
দিল্লি ও কলকাতায় আওয়ামী লীগের সরব উপস্থিতি ভারতের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের কার্যক্রম নিজেদের মাটি থেকে চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া এবং বাংলাদেশের আইনের চোখে ‘ওয়ান্টেড’ অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তবে কলকাতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ভারত তাদের দেশে ফেরত পাঠাবে, এমন কোনো ভয় তারা পাচ্ছেন না।
গার্ডিয়ান বলছে, এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরম রূপ নেয় গত সপ্তাহে যখন শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন। একটি অডিও বার্তায় তিনি আসন্ন নির্বাচনের নিন্দা জানান এবং মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত করেন।
এই ভাষণ প্রচারের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।
তারা বলেছে, ‘ভারতের রাজধানীতে এই ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া এবং একজন গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি সুস্পষ্ট অবমাননা।’
অবশ্য এবারও কোনো জবাব দেয়নি ভারত সরকার।
গার্ডিয়ান বলছে, কলকাতার আরামদায়ক বাসস্থানে দিন কাটানো আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে তেমন কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। অধিকাংশ নেতাই ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানকে জনবিস্ফোরণ মানতে নারাজ, বরং একে তারা দেখছেন ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমও বাস করেন কলকাতার বিলাসবহুল বাড়িতে। সেখানে বসেই তার সঙ্গে কথা হয় গার্ডিয়ানের। যেখানে তার বিরুদ্ধে ওঠা মামলার প্রসঙ্গ তোলা হলে সেগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দেন তিনি।
এখন পর্যন্ত নির্বাসিত এই নেতাদের পরিকল্পনা নির্ভর করছে মূলত আসন্ন নির্বাচনের ব্যর্থতার ওপর। তারা মনে করেন, এই নির্বাচন দেশে স্থিতিশীলতা বা শান্তি আনতে পারবে না এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ আবার আওয়ামী লীগকেই চাইবে।
তবে অন্য সব নির্বাসিত নেতার সঙ্গে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করলেন সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়।
তিনি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি মানছি যে আমরা ফেরেশতা ছিলাম না। আমরা স্বৈরাচারী ছিলাম, আমরা পুরোপুরি গণতান্ত্রিক ছিলাম না। ২০১৮ সালের নির্বাচনও স্বচ্ছ হয়নি, যা দুর্ভাগ্যজনক।’
দুর্নীতি বিষয়ক অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু অনিয়ম তো অবশ্যই ছিল। এমন কিছু আর্থিক লেনদেন হয়েছে যা আসলে হওয়া উচিত ছিল না এবং সেগুলোর দায় আমাদের নিতেই হবে।’
তবে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দেশ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
কলকাতায় বসবাসরত অনেকের মতো জয়েরও বিশ্বাস, তাদের এই নির্বাসিত জীবন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। যদিও তিনি জানেন দেশে ফিরলে তার জন্য কারাজীবন অপেক্ষা করছে, তবুও তিনি আশাবাদী।
তিনি গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আমাদের জন্য পরিস্থিতি এখন খুব খুবই খারাপ। তবে আমার মনে হয় না এমন অবস্থা আর খুব বেশিদিন থাকবে।’


