নোয়াখালীতে হেযবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির নেতারা হেযবুত তাওহীদকে ‘ইমান বিধ্বংসী জঙ্গি সংগঠন’ ও ‘কালো তালিকাভুক্ত’ বলে উল্লেখ করে সরকারের কাছে এটি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর এবং ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ইসলামী মহাসমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী অভিযোগ করেন, হেযবুত তাওহীদ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে।
তার দাবি, সংগঠনটির কার্যক্রমে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, স্থিতিশীলতা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। এ কারণে সরকারিভাবে হেযবুত তাওহীদ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশের দুই অধিবেশনে জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতে ইসলামের নোয়াখালী জেলা আমির নিজাম উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মহিউদ্দিন।
এতে আরও বক্তব্য দেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক আরশাদ রহমানী, জামেয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের পরিচালক সালাউদ্দিন নানুপুরী, ইসলামী মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মুস্তাকুন্নবী কাসেমী, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মো. ফয়জুল করীম, আজিজুল্লাহ নবাব, সিদ্দিক আহমদ নোমান ও নুরুল ইসলাম।
সমাবেশে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদ আজাদ, ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা সরকারের প্রতি দাবি জানান, হেযবুত তাওহীদকে দ্রুত নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সংগঠনটির প্রকাশিত বইপত্র, পত্রপত্রিকা ও ওয়েবসাইট বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনটির করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানান।
দাবি আদায়ে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হেযবুত তাওহীদের কার্যক্রম নিয়ে সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।


