সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য জি কে গউছ ও লুৎফুজ্জামান বাবর।
সোমবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনজন।
এ সময় তারা নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। শুনানি শেষে আদালত আগামী ২১ এপ্রিল যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ বলেন, ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তারা আদালতে নিজেদের বক্তব্য দিয়েছেন।
জবানবন্দি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। মামলার কোনো সাক্ষীই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। শুরুতে এজাহারেও আমাদের নাম ছিল না, পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে যুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, তারা আদালতের প্রতি আস্থা রাখেন এবং ন্যায়বিচার হলে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।
একইভাবে জি কে গউছ বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। প্রথম এজাহারে আমাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক চার্জশিটে যুক্ত করা হয়েছে।’ আদালতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘অতীতের বিভিন্ন আলোচিত মামলার মতো এ মামলার পেছনেও একই উদ্দেশ্য কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের আমলে এসব কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা মানুষ বুঝতে পারে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ধ্বংস করার জন্যই এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি আমাদের নেতা তারেক রহমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যও এতে রয়েছে।’
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে আরিফুল হক চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত হন। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা যায়। শুনানিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শুনানিতে সিলেট জেলা পিপি আশিক উদ্দিন ও মহানগর পিপি বদরুল আলম চৌধুরী অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাইবাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত ও ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনার দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।


