জাতীয় সঞ্চয়পত্রের সার্ভার থেকে গ্রাহকের তথ্য জালিয়াতি করে টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আরিফুর রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ঢাকার মতিঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন মতিঝিল থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন।
এর আগে জালিয়াতি করে সঞ্চয়পত্রের টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনায় মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক আবুল খায়ের মো. খালিদ। যেখানে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
আরিফুর ছাড়া বাকি তিন আসামি হলেন, মারুফ এলাহী রনি, মহিউদ্দিন আহমেদ ও আল আমিন।
এদের মধ্যে মারুফ এলাহি রনি ছাত্রদলের আগের কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি অমর একুশে হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কও ছিলেন।
মামলা এজাহারে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা এসএম রেজভী আয়কর রিটার্নের ফরম পূরণ করতে গিয়ে দেখেন, গত ১৩ অক্টোবর কেনা তার ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র নগদায়ন হয়েছে বলে দেখানো হচ্ছে। অথচ তিনি নগদায়ন করেননি বা এ সংক্রান্ত কোনো আবেদনও করেননি।
মামলায় বলা হয়, গত ২৩ অক্টোবর সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করা হয়। তবে শাখায় নগদায়নের কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, আসামিরা প্রথমে ২২ অক্টোবর সার্ভারে গ্রাহক হিসেবে এসএম রেজভীর দেওয়া মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে, এরপর ব্যাংক হিসাবের তথ্য পরিবর্তন করা হয়।
গ্রাহক এস এম রেজভীর দেওয়া ব্যাংক হিসাবের পরিবর্তে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের দিনাজপুরের রানীগঞ্জ উপশাখায় আরিফুর রহমানের তথ্য দেওয়া হয়। আরিফুর রহমানের সেই ব্যাংক হিসাবেই গত ২৬ অক্টোবর সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, একই প্রক্রিয়ায় আরও দুই গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন আসামিরা। এর মধ্যে ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার একটি হিসাবে গত ২৭ অক্টোবর দুইটি সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ৫০ লাখ টাকা নগদায়ন হয়।
ডাচ বাংলা ব্যাংকের এই হিসাবটি মারুফ এলাহি রনির। তবে শেষ পর্যন্ত এই টাকা তারা তুলতে পারেনি।


