উত্তর ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর গতি বাড়িয়ে বারমুডার দিকে এগোচ্ছে হারিকেন মেলিসা।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হারিকেন মেলিসায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে।
জ্যামাইকার তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা গেছে। তবে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে হাইতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে কমপক্ষে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটি সরাসরি ঝড়ের কবলে না পড়লেও, এই ধীরগতির ঝড়ের কারণে সৃষ্ট মুষলধারে বৃষ্টিতে কয়েকদিন ধরে ভুগেছে। বেশিরভাগ মৃত্যুই দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর পেটি-গোয়াভে একটি নদীর তীর ভেঙে যাওয়ার কারণে ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় (০০০০ জিএমটি) মেলিসা একটি ক্যাটাগরি ১ ঝড় হিসেবে উত্তর আটলান্টিকের ব্রিটিশ দ্বীপ অঞ্চল বারমুডা থেকে ৪০৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। মেলিসার কেন্দ্রবিন্দু উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে পাশ কাটিয়ে গেলেও রাতের মধ্যেই সেখানে হারিকেন পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
জ্যামাকায় ঝড়ের কারণে লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে, ভবনের ছাদ উড়ে গেছে এবং মাঠঘাট ধ্বংসস্তূপে ছেয়ে গেছে।
জ্যামাইকার সামরিক বাহিনী ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য রিজার্ভ ফোর্সকেও মাঠে নামতে বলেছে।
এর আগে মঙ্গলবার শক্তিশালী ক্যাটাগরি ৫ হারিকেন হিসেবে মেলিসা দক্ষিণ-পশ্চিম জ্যামাইকায় আঘাত হানে। যা এই ক্যারিবীয় দেশটির উপকূলে সরাসরি আঘাত হানা এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। ১৯৮৮ সালের পর প্রথম কোনো বড় হারিকেন হলো মেলিসা, যা সরাসরি ভূখণ্ডে আঘাত হানল।
সবচেয়ে শক্তিশালী হারিকেন হওয়ার জন্য বাতাসের যে সর্বনিম্ন গতিবেগ প্রয়োজন, মেলিসার বাতাসের গতিবেগ ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি।
আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট একুওয়েদার বলছে, ভূখণ্ডে আঘাত হানার সময় বাতাসের গতির দিক থেকে এটি আটলান্টিক মহাসাগরের ইতিহাসে রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় শক্তিশালী হারিকেন হিসেবে যৌথভাবে স্থান পেয়েছে।
এই আবহাওয়া সংস্থাটি পশ্চিম ক্যারিবীয় অঞ্চল জুড়ে ৪৮ বিলিয়ন থেকে ৫২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক লোকসান ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাইতির স্থানীয় পত্রিকা ল্য নুভেলিস্ত জানিয়েছে, নদীর ভাঙনে একটি জাতীয় মহাসড়কের অংশ ভেসে গেছে। রাস্তাটি গত বছরের হারিকেন বেরিলের আঘাতে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
মেলিসা পূর্ব কিউবাতেও আঘাত হানে। যেখান থেকে প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার মানুষকে আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত, বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও সেখানে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।


