গাজার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে ইসরায়েল। আর এর মধ্য দিয়েই গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
বিবিসি’র খবরে বলা হয়, আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের সেনারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘২০দফা শান্তি পরিকল্পনা’ অনুযায়ী নির্ধারিত সীমান্তরেখায় অবস্থান করছেন। তবে ‘যেকোনো তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করতে’ ইসরায়েল তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
গাজা সিটি ও মধ্য গাজার কিছু অংশ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) সামরিক ব্রিগেড এবং ডিভিশনগুলো এরইমধ্যে প্রত্যাহার করে নিয়েছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার।
কাজেই হামাসের কাছে জিম্মি মুক্তির জন্য এখন থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় রয়েছে। এর বিনিময়ে, ইসরায়েলের কারাগারে দণ্ডপ্রাপ্ত শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে নেতানিয়াহুর সরকার।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনা সরে যাওয়ায় উপত্যকার পশ্চিমাঞ্চলে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনিরাও গাজা সিটি এবং মধ্য গাজায় ফিরতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো উপত্যকার উত্তরে সরে যেতে শুরু করেছে। তবে তারা এখনও নেৎজারিম করিডোরে প্রবেশের অনুমতি পায়নি। উত্তর গাজার এই অঞ্চল থেকেই গাজায় অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
নিজ নিজ ঘরে ফেরার তাগিদে উত্তর গাজার বাসিন্দারা নেৎজারিম থেকে শেষ ইসরায়েলি ট্যাংক এবং সেনাকে সরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষা করছেন। গাজার সিভেল ডিফেন্সও শেষ ইসরায়েলি সেনা গাজা থেকে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
অবশ্য স্থানীয়দের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেই ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন, যুদ্ধবিমান এবং সমুদ্রে নৌবাহিনীর জাহাজের কঠোর নজরদারি ও তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
এদিন সকালেই গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে হামাসের সঙ্গে চুক্তির অনুমোদন দেয় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। তবে এরপর পরই দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও উত্তর গাজার একাধিক স্থানে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।


