ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয়শ বছরের পুরোনো একটি পুকুর বেআইনিভাবে বালু দিয়ে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এর মধ্যেই পুকুরের একাংশের মালিক এক একর জায়গার পুকুরটির ৭০ শতাংশই ড্রেজারের মাধ্যমে বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলেছেন। খবর পেয়ে রোববার সকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী রবিউস সারোয়ার পুলিশসহ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুকুর ভরাটে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে প্রত্যেককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
স্থানীয়রা জানান, বাহাদুরপুর গ্রামের ঈদগাহ সংলগ্ন পুকুরটি প্রায় ছয়শ বছরের পুরোনো। প্রায় এক একর জমির উপর এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করে আসছেন। কোন অনুমতি ছাড়াই গত এক সপ্তাহ যাবৎ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু দিয়ে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পুকুরের একাংশের মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট তিনজনকে আটক করে শাস্তির ব্যবস্থা করেন।
তারা হলেন, বাহাদুরপুর গ্রামের মো এরশাদ, দেওয়ান মিয়া ও রাজিব মিয়া।

অভিযোগকারী খোরশেদ আলম বলেন, ‘পুকুরটি তাদের পূর্ব পুরুষদের এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করে আসছে। পুকুর ভরাট করায় পয়নিষ্কাশনসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পানির সংকটে আগুন নেভানোও কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া পুকুর ভরাট না করা নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে।’
তবে পুকুর ভরাটের পক্ষের লোকজন বলেন, ‘আমাদের থাকার মত বাড়িঘর নাই তাই সবাই মিলে পুকুরটি ভরাট করার উদ্যোগ নিয়েছি।’
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার জানান, কিছুদিন ধরে পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা চলছে, এমন অভিযোগ প্রশাসনের কাছে আসলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পুকুরটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনো জলাশয় ভরাট করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ঘটনায় আপাতত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে, প্রত্যেককে তিনদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও একশ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে এবং ড্রেজারের পাইপ অপসারণসহ পুকুর ভরাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


