বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতিসত্তার সমন্বয়ে একটি বৈষম্যহীন এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনে বর্তমান সরকারের অটল অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।
শুক্রবার কক্সবাজারে ‘রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত সম্মাননা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতির মূল দর্শন হলো–সব সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের সঙ্গে মেলবন্ধন ও সহমর্মিতা বজায় রেখে বৈষম্যহীনভাবে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়ন, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ, শ্রদ্ধা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল কাজ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পার্বত্য অঞ্চল ও কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে আরও পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করতে হবে। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলসহ সমগ্র কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
রাখাইন সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব পথরেখা তৈরি করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি তাদের স্ব স্ব কর্ম ও অর্জন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাতির সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরার তাগিদ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রথিতযশা চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সিভিল ও পুলিশ ক্যাডারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা মোট ৩৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে (জীবিত ও মরণোত্তর) সম্মাননা স্মারক দেন পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু। আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী রাখাইন সম্প্রদায়ের শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।
রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কেন্দ্রীয় কমিটি) সভাপতি মং হলা চিং-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না।


