জাতীয় সংসদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক। আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো খায়রুল হক গজিয়ে উঠুক। সুপ্রিম কোর্টে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক; আমরা চাই সুপ্রিম কোর্ট মানুষের আস্থার শেষ আশ্রয়স্থলে পরিণত হোক এবং বাংলাদেশের বিচার বিভাগ পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করুক।’
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রোহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের পর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আক্তার হোসেনের বিরোধিতার জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, অতীতে বিশেষ করে গত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনামলে সুপ্রিম কোর্টে এমনভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে দলীয় ক্যাডারদের বিচারক হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করা হয়েছে এবং খায়রুল হকের মতো ব্যক্তিদের জন্ম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিতর্কিত নিয়োগের কারণেই দেশের মানুষের হৃদপিণ্ড তথা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে আক্রমণের মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তাই আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে চাই। আমরা চাই এমন এক বিচার বিভাগ, যা হবে স্বাধীন ও সক্রিয়।’
বিরোধীদলীয় সদস্যের আগের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উনি বলেছেন আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকাকালীন এই আইনকে সমর্থন করেছি। একজন রাষ্ট্রীয় আইনজীবী হিসেবে আমাকে সরকারের ব্রিফ ও নির্দেশনা পালন করতে হতো। তখন সরকার ছিল আমার মক্কেল, আর আমি মক্কেলের পক্ষে কথা বলেছি। কিন্তু এখন আমি এই সরকারের মন্ত্রী এবং এই সংসদের সদস্য। আমার সরকারের বর্তমান নীতি হলো বিচার বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড নিশ্চিত করা।’
সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সদস্য সংবিধানের ৯৫(গ) অনুচ্ছেদ পড়েছেন, কিন্তু ৯৫(১) পড়েননি। সেখানে বলা আছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি বিচারক নিয়োগ দেবেন। আমরা চাই একটি সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে বিচার বিভাগের রোগ শনাক্ত করতে এবং সঠিক সমাধান দিতে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ শোধ করতে আমাদের সঠিক পথে চলতে হবে। আসুন, আমরা এক টেবিলে বসে ভুল-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করি। আইন কোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়; প্রয়োজনে আমরা আবারও সংশোধন করব। আপনারা সংস্কার চাচ্ছেন, আমরা বলছি সংবিধান সংশোধন—আসলে প্রতিটি সংশোধনই একটি সংস্কার। আসুন, আমরা সেই পথেই এগিয়ে যাই।’


