চট্টগ্রামে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জুলাই যোদ্ধা নিহতের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বৃহস্পতিবার ছাত্র সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুবায়ের ও বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম লিটনের গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় গাজী তাহমিদসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। অভ্যুত্থানের পর প্রায়ই দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও নানা ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলমান রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানোত্তর সময়ে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গভীর শঙ্কার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সহিংসতা, হানাহানি, দলীয় কোন্দল ও ক্ষমতার অপব্যবহার বাংলাদেশের পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্রমাগত অস্থির করে তুলেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে এর আগেও বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়।
বিএনপি-জামায়াতের সংঘাতের মতো ঘটনা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং একই সঙ্গে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলের ভয়ংকর অধ্যায়কে মনে করিয়ে দিচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণে অন্তর্বর্তী সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং জুলাইয়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলকে আরও দায়িত্বশীল, সংযত ও সহনশীল রাজনৈতিক চর্চায় ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে, বুধবার চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাবেক সংগঠক ও আপ বাংলাদেশের সদস্য গাজী তাহমিদ খান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।


