মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠ কিংবা বিসিবি কার্যালয়ের বারান্দা, সবখানেই গত কয়েক দিন ছিল চাপা উত্তেজনা আর অনিশ্চয়তার ছাপ। সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের যে ঘোষণা ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব দিয়েছিল, সেখান থেকে অবশেষে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা শুক্রবার থেকেই ব্যাট-বলের লড়াইয়ে ফিরতে আগ্রহী। তবে এই ফেরার পেছনে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা ও তার পদ নিয়ে বিসিবির আইনি প্রক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত।
কোয়াব তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা করেছে। চলমান সংকটের প্রভাব যে কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে, তা ক্রিকেটারদের উপলব্ধিতে এসেছে। এই মুহূর্তে নেপালে নারী জাতীয় দল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লড়ছে, সামনেই ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং বর্তমানে অনূর্ধ্ব-১৯ দলও বিশ্বকাপে ব্যস্ত। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সব ধরনের খেলা বন্ধ রাখলে এই দলগুলোর ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কোয়াব। বিশেষ করে বিপিএল-এর মতো টুর্নামেন্টকে ক্রিকেটাররা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
আন্দোলনের মুখে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ক্রিকেটাররা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে বিসিবি তার পরিচালক পদের ব্যাপারে যে সময় চেয়েছে, ক্রিকেটাররা তাতেও সম্মতি দিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তার পরিচালক পদ নিয়ে প্রক্রিয়াগত কারণে যেহেতু বিসিবি সময় চেয়েছে, সেই সময়টুকু আমরা দিতে চাই। তবে আশা করব, সেই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।’
তবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নন ক্রিকেটাররা। নাজমুল ইসলাম যেহেতু প্রকাশ্যেই ক্রিকেটারদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন, তাই তাকে জনসমক্ষেই ক্ষমা চাইতে হবে বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে। বিসিবিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তিনি ক্ষমা চাইলে এবং পরিচালক পদ থেকে তাকে অপসারণের আইনি প্রক্রিয়া সচল থাকলে শুক্রবার থেকেই ২২ গজে ফিরবেন ক্রিকেটাররা।


