দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি যুগোপযোগী ও মূল্যবোধভিত্তিক করতে কারিকুলাম সংস্কারের যাত্রা শুরু হয়েছে। ২০২৮ সালের এই নতুন কারিকুলামে পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষায় মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান (এফএলএন) নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
রোববার ঢাকার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন। টেক্সটবুক, শিক্ষক নির্দেশিকা, রেমেডিয়াল গাইড ও ভিডিও লেসন ডিজাইনের জন্য আয়োজিত এই সভায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (এনএপিই) এবং বিভিন্ন কারিকুলাম পার্টনাররা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৮ সালের কারিকুলাম সংস্কারের যাত্রা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। নতুন কারিকুলাম প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বাস্তব শেখার সক্ষমতা, পাঠদক্ষতা, গণিত দক্ষতা এবং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
তিনি যোগ করেন, দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী যেন যেকোনো বই নিজে বুঝে পড়তে পারে, নিজের ভাষায় তা প্রকাশ করতে পারে এবং শিক্ষার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়—সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
নতুন কারিকুলামের রূপরেখা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ জানান, প্রতিটি শ্রেণির জন্য সুনির্দিষ্ট ‘লার্নিং আউটকাম’ (শিখনফল) এবং পঞ্চম শ্রেণি শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ‘এক্সিট প্রোফাইল’ বা অর্জনযোগ্য দক্ষতার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। এর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক নির্দেশিকা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি তৈরি করা হবে।
শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নতুন কারিকুলামের সঙ্গে মিল রেখে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভিডিও লেসন এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা হবে। এ ছাড়া আগামী ১ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং পরবর্তী ৩ বছরের মধ্যে প্রতিটি ক্লাসরুমে ইন্টারঅ্যাক্টিভ ফ্ল্যাট প্যানেল (আইপিএফ) বা স্মার্ট বোর্ড প্রদান করা হবে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে সম্পূর্ণভাবে খেলাধুলা ও আনন্দভিত্তিক করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
মতবিনিময় সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ছাড়াও ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি, গণসাক্ষরতা অভিযান এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


