আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭টি মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।
তিনি জানান, এসব মামলায় মোট আসামি ৪৬৩ জন। তাদের মধ্যে ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও ২৮৮ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। চলমান ৭৩টি মামলার মধ্যে ২২টি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে এবং ৫১টি তদন্তাধীন রয়েছে।
নিষ্পত্তি হওয়া ৭টি মামলায় মোট ৫৯ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকিদের যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজন আসামি মারা গেছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন।
সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, দেশের বিভাগভিত্তিক হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। ‘আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ’ মামলায় আপিল বিভাগ ঢাকার বাইরে স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী বলে রায় দেওয়ায় এই বিষয়টি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।
এদিকে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’কে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’-এ উন্নীত করা হয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এই রূপান্তর সম্পন্ন হয়। দক্ষ আইনজীবীদের লিগ্যাল এইডের প্যানেলভুক্ত করতে সরকার প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে।
এ ছাড়া সরকারি লিগ্যাল এইড সেবার সঙ্গে বেসরকারি এনজিওগুলোর ডিজিটাল সমন্বয়ের কারিগরি ও আইনি সীমাবদ্ধতা দূর করে একটি সমন্বিত ও নিরাপদ ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।


