কুড়িগ্রামে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা ওরফে জাহাঙ্গীর মোল্লা (৩৫)।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, চোরাকারবারি এবং অন্যের জায়গায় আশ্রয় নেওয়া নদী ভাঙনের শিকার মানুষের ওপর হামলা, বাজারের দোকানঘর দখলের চেষ্টাসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার নিজস্ব সন্ত্রাস বাহিনী রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
কুড়িগ্রামে তিন থানায় জাহাঙ্গীর মোল্লার নামে সাতটি মামলা রয়েছে। রৌমারী থানায় ২০০৬ সালের ১৯ জুলাই, ২০০৭ সালের ৫ জুন ও ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরে তিনটি সন্ত্রাসী মামলা হয়। একই থানায় ২০১৯ সালের ১০ জুলাই ও ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি দুটি মাদক মামলা হয়। এ ছাড়া চিলমারী থানায় ২০১৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে একটি মাদক মামলা ও চররাজীবপুরে ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা হয়।
চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসমত আরা সবশেষ ওই মাদক মামলায় জাহাঙ্গীরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, ‘জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও সন্ত্রাসী হামলার মামলা থাকার বিষয়টি সত্য। গত ২৯ এপ্রিল আদালত তাকে যে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তবে সেই আদেশের আনুষ্ঠানিক কপি এখনো থানায় পৌঁছায়নি। আদেশের কপি হাতে না পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না ।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা বলেন, ‘এটা মিথ্যা মামলার এক তরফা রায় দিয়েছে, আমি উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুত নিচ্ছি।’
একই মামলায় রাজু আহমেদ ওরফে মুসা মোল্লা নামে অপর এক আসামিকে আদালত গ্রেপ্তার করলেও জাহাঙ্গীর মোল্লা এখনো বহাল তবিয়তে আছেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ করে বেড়াচ্ছেন জাহাঙ্গীর মোল্লা ও তার সহকারীরা।
উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে বসতবাড়িসহ ফসলি জমি হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়েছেন। গত বছর নিরুপায় হয়ে এমন নিঃস্ব ২৫ পরিবার সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর পরিত্যক্ত জায়গায় আশ্রয় নিলে ১২ জুন তাদের ওপর হামলা করেন জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনী। ভিটে মাটিহীন মানুষদের মারধরসহ জাহাঙ্গীর তাদের অস্থায়ী ঘর ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ আছে।
এছাড়াও চরশৌলমারী বাজারে একটি দোকান ঘরে তালা ঝুলিয়ে ‘চরশৌলমারী হাট-বাজার লেখা পোস্টার লাগিয়ে দখলের চেষ্টা করেন।
চরশৌলমারী বিএনপির আহ্বায়ক এমএ ছাত্তার জানান, অনেক আগে অবিভক্ত বন্দবেড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের চরশৌলামারী আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিল জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা। ইউনিয়ন ভাগ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বিএনপির কোনো সংগঠনে তার কোনো পদ নেই।
বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ কার্যক্রম চালায় স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীর মোল্লা বিএনপির পরিচয় দেন। কিন্তু তিনি আমার দলের কেউ না। তার কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না।’


