কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়া পরিদর্শনে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং তার গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
রোববার রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
এতে বলা হয়, রোববার সন্ধ্যায় লালন আখড়ায় প্রবেশের সময় নাসীরুদ্দীনের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে তার হাতে আঘাত লাগলে তিনি ও আরও দুইজন আহত হন। পরে নেতাকর্মীরা তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ঘটনার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্তের কথা জানায়।
এনসিপির দাবি, নাসীরুদ্দীনের ওপর এ ধরনের হামলা এটাই প্রথম নয়। গত জানুয়ারিতে ঢাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের একটি অনুষ্ঠানে তাকে লক্ষ্য করে একাধিকবার ডিম নিক্ষেপ ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে। পরে ওই ঘটনায় নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত জুলাইয়ে হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নাসীরুদ্দীন দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং সারজিস নিরাপত্তার জন্য একটি ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়।
এর কয়েক দিন পর সিলেটেও নাসীরুদ্দীনের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে বলে জানায় এনসিপি। ওই ঘটনায় গাড়ির কাচ ভেঙে যাওয়ার ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হলেও স্থানীয় পুলিশ হামলার ঘটনা অস্বীকার করে। এনসিপি ওই ঘটনারও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।
দলটি বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতার ওপর বারবার হামলা, হেনস্তা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশের লক্ষণ নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তার জবাব হামলা, ভয়ভীতি বা সহিংসতার মাধ্যমে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
কুষ্টিয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে এনসিপি। একই সঙ্গে নাসীরুদ্দীন ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হামলা, হেনস্তা কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা উচিত নয়। দেশের যেকোনো প্রান্তে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।


