পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই নিয়োগের প্রতিবাদে এবং সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে এ মন্ত্রণালয়ে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে।
রোববার সকালে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন আয়োজন করে ‘রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ’। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এই মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির শর্তসমূহ লঙ্ঘন করা হয়েছে।
একই দাবিতে খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান শহরেও বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে তিন জেলার আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে তারা পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, শান্তি চুক্তির শর্ত মেনে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব পুনর্গঠন এবং এ অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণী যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জোর দাবি জানান।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করার কথা স্পষ্ট বলা রয়েছে। তারা দাবি করেন, বর্তমান প্রতিমন্ত্রীকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া শান্তি চুক্তির মূল চেতনা ও শর্তাবলির পরিপন্থী।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এই নতুন নিয়োগের পর থেকে পাহাড়ি জেলাগুলোর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন, শান্তি চুক্তির সঠিক বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলের প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি পদত্যাগ করার পর থেকেই এই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ও উপদলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নানামুখী অভিযানের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা জরুরি।


