সহজ ম্যাচ কীভাবে কঠিন করে জিততে হয়, সেটা পাকিস্তানের চেয়ে ভালো আর কে জানে! সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে লক্ষ্য ছিল ১৩৪ রানের। সেই রান তাড়ায় নেমে বিনা উইকেটে ৪৫ থেকে একটা পর্যায়ে পাকিস্তানের অবস্থান ছিল ৫ উইকেটে ৮০ রান। মঙ্গলবার সেই দুরবস্থা থেকে দলকে সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উদ্ধার করলেন মোহাম্মদ নওয়াজ ও হুসাইন তালাত। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুই ব্যাটারের ৫৮* রানের জুটিতে ১২ ওভার হাতে রেখে জিতল পাকিস্তান। আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ৫ উইকেটের এই জয়ে টিকে রইল পাকিস্তানের ফাইনালের আশা। যদিও তাদের টুর্নামেন্টের ভবিষ্যত নির্ভর করছে বাংলাদেশের ওপরও।
সেসব হিসেব পাকিস্তান কদিন পরেও করতে পারবে। তবে ভারতের বিপক্ষে হারের পর এই জয়টা তাদের মনে স্বস্তি ফিরিয়েছে নিশ্চিত। অবশ্য রান তাড়ায় নেমে পুরোটা সময় স্বস্তিতে ছিল না দল। সাহিবজাদা ফারহান আর ফখর জামানের ৪৫ রানের ওপেনিং জুটিতে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল দল। কিন্তু মাহিশ থিকশানা আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার স্পিন জাদুতে টালমাটাল হয়ে পড়ে পাকিস্তান। থিকশানার জোড়া আঘাতে ফারহান-ফখর দুজন ফেরার পর ইনিংস বড় করতে পারেননি সাইম আইয়ুব-সালমান আগারাও। শেষ দুই ব্যাটার উইকেট দিয়েছেন লেগ স্পিনার হাসারাঙ্গাকে।
সেই ধসের পর হাল ধরেন তালাত আর নওয়াজ। মাঝে মোহাম্মদ হারিস আউট হলেও সেই প্রভাব পড়তে দেননি দুজনের কেউই। স্লো উইকেটে ব্যাট করেছেন দেখেশুনে। উইনিং শট মারা নওয়াজ অপরাজিত ছিলেন তিন ছক্কা আর তিন চারে ২৪ বলে ৩৮ রানে। আগের ইনিংসে বল হাতে দুই উইকেট নেয়া তালাত মাঠ ছেড়েছেন ৩০ বলে ৩২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারায় শ্রীলংকা। দারুণ ছন্দে থাকা পাথুম নিসাঙ্কা আর কুশাল মেন্ডিস দুজনই ফিরেছেন পাওয়ারপ্লের মধ্যে। শুরুর সেই ধসের পর ইনিংস এগিয়ে নিয়েছেন কামিন্দু মেন্ডিস। ৪৪ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার সাথে হাসারাঙ্গার ১৫ ও চামিকা করুনারত্নের ১৭ রানের ইনিংসে ১৩০ পেরোনো সংগ্রহ পায় শ্রীলংকা।
ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচটা খারাপ গেলেও এই ম্যাচে জ্বলে উঠেছেন শাহীন শাহ আফ্রিদি-আবরার আহমেদরা। ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৩ উইকেটে নিয়েছেন শাহীন। ভারত ম্যাচে ৪৫ রানে দিয়ে উইকেট শূন্য থাকা আবরার ৪ ওভার বল করে দিয়েছেন মাত্র ৮ রান! ডট আদায় করেছেন ১৬টি।


